অন্ধ সন্তোষের জীবন চলে খাল থেকে শাক তুলে - বিডি বুলেটিন অন্ধ সন্তোষের জীবন চলে খাল থেকে শাক তুলে - বিডি বুলেটিন

শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২০, ০২:২০ অপরাহ্ন

অন্ধ সন্তোষের জীবন চলে খাল থেকে শাক তুলে

অন্ধ সন্তোষের জীবন চলে খাল থেকে শাক তুলে

অনলাইন ডেস্ক:
সন্তোষ কুমার। বয়স ৬০ বছর। কয়েক বছর আগে দুই চোখের আলো হারিয়েছেন। কারও কাছে হাত পাততে পারেন না। তাই সকালে শুধু বিস্কুট আর চা খেয়ে লাঠি হাতে নিয়ে খালের পানিতে নেমেছেন কলমি শাক তুলতে। পানি থেকে হাতড়ে কলমি শাক তুলছেন। এগুলো বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ টাকা আয় হবে। আর এ টাকা দিয়েই তার দুপুর ও রাতের খাবার জুটবে।

সন্তোষ কুমার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সানবান্ধা গ্রামের মৃত রামরুপ বিশ্বাসের ছেলে। এক সময় তার কাজ করার ক্ষমতা ছিল। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার ভালোই চলতো। কিন্তু এখন আর গ্রামে কিছুই নেই তার। পাশেও কেউ নেই।

জানা যায়, সন্তোষ কুমারের প্রথম স্ত্রী শেফালী বিশ্বাস সংসারে অভাবের কারণে তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন সন্তোষ কুমর। সেই স্ত্রীও একই কারণে তার কাছে থাকেন না। স্ত্রী কল্পনা বিশ্বাস কালীগঞ্জ শহরে একটি হোটেলে থালা-বাটি পরিষ্কারের কাজ করেন। স্বামী সন্তোষ কুমারের কোনো খোঁজ তিনি রাখেন না। আর তার বড় ছেলে সঞ্জয় কুমার বিশ্বাসকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। ছোট ছেলে সুমন বিশ্বাস অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। ভিটেবাড়ি যা ছিল ছেলের চিকিৎসার কারণে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাদের একমাত্র মেয়ে শ্যামলী বিশ্বাসকে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সন্তোষ কুমার অসহায় অবস্থায় কালীগঞ্জ শহরে নদীপাড়ায় অন্যের জায়গায় বসবাস করেন।

কালীগঞ্জ শহরের বাসিন্দা লিয়াকত আলী খাঁন বলেন, অন্ধ সন্তোষ কুমারকে সরকারি মহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের প্রাচীর সংলগ্ন খালসহ তাদের এলাকার অন্যান্য খালে প্রায়ই কলমি তুলতে দেখা যায়। পানির মধ্যে হাতড়াতে দেখে খারাপ লাগে। অসহায় হয়ে পড়ায় এভাবে কষ্ট করে জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে।

কালীগঞ্জ নিমতলা স্টান্ডের মাহেন্দ্র চালক সাকাওত মিয়া বলেন, অন্ধ সন্তোষ কুমারের কাছ থেকে আমিও কলমি শাক কিনি। মাঝে মাঝে প্রয়োজন ছাড়াই তার কাছ থেকে আমাদের কিছু কেনা উচিৎ। কারণ তিনি ভিক্ষা করে নয় জীবনে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে চান।

অন্ধ সন্তোষ কুমার জানান, বেশ কয়েক বছর হলো তিনি দুই চোখে দেখতে পারেন না। এ জন্য ঠিকমতো কাজও করতে পারেন না। সকালে বের হন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়িতে ফেরেন। অনেক দিন রাতের খাবার হয়, আবার কোনো দিন হয় না। তিনি অন্য কোনো কাজ করতে না পেরে এই কলমি শাক তুলে বিক্রি করার কাজ বেছে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, নদীপাড়ার বাসা থেকে বের হয়ে লাঠির নিশানায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ধরে নিমতলা বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে কলেজমোড় এলাকায় চলে যাই। সেখানে বেশ কয়েকটি খাল রয়েছে। এসব খালে কলমি শাক পাওয়া যায়। সেগুলো হাতড়ে হাতড়ে উঠাই। এরপর কলমি লতা দিয়েই আঁটি তৈরি করি। এরপর মাথায় নিয়ে লাঠির নিশানায় নিমতলা এলাকায় যাই। সেখানে কিছু নিয়মিত ক্রেতা রয়েছে, তারা এগুলো কিনে নেন। যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে দুপুরের খাবার খাই। টাকা একটু বেশি হলে রাতের জন্য রুটি কিনে বাসায় ফিরি। আবার অনেক দিন রাতের খাবার নেয়া সম্ভব হয় না।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রাণী সাহা বলেন, এ জাতীয় মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। তিনি যোগাযোগ করলে এই কর্মসূচির মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগিতা করা হবে।

90 total views, 3 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018