আগৈলঝাড়ায় পরিবার ও স্ত্রী সন্তানদের শোক সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে রাজিব সরকার - বিডি বুলেটিন আগৈলঝাড়ায় পরিবার ও স্ত্রী সন্তানদের শোক সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে রাজিব সরকার - বিডি বুলেটিন

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

আগৈলঝাড়ায় পরিবার ও স্ত্রী সন্তানদের শোক সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে রাজিব সরকার

আগৈলঝাড়ায় পরিবার ও স্ত্রী সন্তানদের শোক সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে রাজিব সরকার

Print Friendly, PDF & Email

এস এম শামীম :
স্ত্রী নাবালক সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের শোক সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের দিলীপ সরকার চানুর ছেলে রাজিব সরকার (২৮)। ১৮ আক্টোবর শুক্রবার ভারতের ব্যঙ্গালোর সাহি বাবা একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত আটদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন তিনি। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজিব হার্টের চিকিৎসা করার জন্য ভারতের ব্যঙ্গালোর সাহি বাবা হাসপাতালে ভর্তি হয়। গত ১০ অক্টোবর রাজিবের হার্টের অপারেশন হয়। অপারেশনের পর রাজিব অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় ১৮ অক্টোবর সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যায়। ২০ অক্টোবর রাজিবের মরদেহ ভারত থেকে বাংলাদেশে তার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তার মৃত্যুর খবর এলাকার সবাইকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে। তার লাশ বাড়িতে আনার পর একনজর দেখার জন্য তার এলাকার বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাংঙ্খী, আত্মীয়-স্বজন, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লোকজন তার বাড়িতে ভীর করেন। রাজিব ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্যনকারী ব্যক্তি। রয়েছে পিতা-মাতা ও ছোট দুই বোন। রাজিবের লাশ বাড়িতে আনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা সবাই শোকার্ত ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদের সাথে পুরো গ্রাম শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। রাজিব অনেক সংগ্রাম করে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বহন করে লেখাপড়া শেষ করে ২০১৭ সালে গৈলা হোমল্যান্ড ডেপেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এনজিওতে সুপারভাইজার পদে চাকুরী নিয়ে সংসার চালাতেন। রাজিবের স্কুল জীবনের সহপাঠী মিতু রানী সরকার ভালবাসার মানুষটিকে জীবনসঙ্গীও করে নেয়। নিজের ঘর আলো করে তাদের সংসারে একটি ছোট্ট কন্যা সন্তানও জন্ম নেয়। সেই কন্যা শিশুর বয়স মাত্র সাত মাস। কিন্তু নিজের পৃথিবীকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার দারপ্রান্তে এসেই শরীরে জমে থাকা মরন ব্যাধির যন্ত্রনাটা খুব চেপে ধরে। অনেক কষ্টে সাজানো ফুলের বাগানটায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য গেলেও ফিরলেন নিথর মরদেহ নিয়ে। তার মৃত্যুতে বাবা মা হারালো বেঁচে থাকার সম্বল একমাত্র পুত্র সন্তানকে। একমাত্র জন্ম নেয়া সাত মাসের ছোট্ট শিশুটি হারালো দুনিয়া সমতুল্য তার প্রিয় বাবাকে। আর নিজের সুখের ঠিকানা গড়ার জন্য স্ত্রী হারালো তার জীবনসঙ্গী আর সামনে চলার পথকে। তার একমাত্র কর্মস্থল গৈলা হোমল্যান্ড ডেপেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এইচডিও) এনজিও’র পরিচালক কাজল দাশ গুপ্ত হারালো একজন সৎ ও আদর্শবান এক দক্ষ কর্মীকে। আর তার প্রিয় সহপাঠী বন্ধুরা হারালো প্রানের প্রিয় বন্ধুকে। রাজিবের মৃত্যুতে এলাকার প্রতিবেশি আর শুভাকাংঙ্খীরা হারালো শান্তসৃষ্ট শান্তি প্রিয় মানুষকে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রইচ সেরনিয়াবাত, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম টিটু, চাঁদশী ইউপি চেয়ারম্যান কৃষ্ণ কান্ত দে, সাবেক গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল দাশ গুপ্ত, আবুল হোসেন লাল্টু, গৈলা বাজার কীর্ত্তণ ও পূজা উদযাপন কমিটি এবং গৈলা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি সুশান্ত কর্মকার, উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক কাজল দাশ গুপ্তসহ প্রমুখ। রোববার দুপুরে নিজ বাড়িতে রাজিব সরকারের অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

 1,208 total views,  3 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018