আগৈলঝাড়ায় স্কুল ছাত্র শুভ কর্মকারের বাংলায় কথা বলা রোবট আবিস্কার - বিডি বুলেটিন আগৈলঝাড়ায় স্কুল ছাত্র শুভ কর্মকারের বাংলায় কথা বলা রোবট আবিস্কার - বিডি বুলেটিন

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০১:০২ অপরাহ্ন

আগৈলঝাড়ায় স্কুল ছাত্র শুভ কর্মকারের বাংলায় কথা বলা রোবট আবিস্কার

আগৈলঝাড়ায় স্কুল ছাত্র শুভ কর্মকারের বাংলায় কথা বলা রোবট আবিস্কার

এস এম শামীম :
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রত্যন্ত এলাকার এক স্কুল ছাত্র আবিস্কার করলো রোবট। যার নাম হলো রবিন। আসলে এটা কোনো মানুষের নাম নয়। এটা একটি অত্যাধুনিক রোবট। যে কিনা বাংলা ও ইংরেজি দু ভাষাতেই কথা বলতে পারে। শুধু তাই নয়, রবিন বলতে পারে তাকে সৃষ্টি করা ক্ষুদে বিজ্ঞানীর নামও। তাছাড়াও সে তার দেশের নাম, প্রধানমন্ত্রীর নাম, রাষ্ট্রপতির নামসহ যে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে অকপটে। এছাড়া কৃষকদের জমিতে কখন কি পরিমান কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে তা সে নিজে থেকেই বলে দিতে পারবে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও শিক্ষা বিষয়ক তথ্যও বলে দিতে পারে। এমনকি, তার আশপাশে আগুন লাগলে সে খবর দিতে পারবে ফায়ার সার্ভিসে এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার অবস্থান দেখতে পাবে গুগল ম্যাপে। আর এই অত্যাধুনিক রোবটটির আবিষ্কারক হলেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা কালুপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার ও দীপ্তি কর্মকারের ছেলে শুভ কর্মকার। মা-বাবার দুই সন্তানের মধ্যে শুভ বড়। শুভ কর্মকার সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। ছোট বেলা থেকেই বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করতেন বিজ্ঞান বিষয়ক আগ্রহ থেকেই। শুধু অংশই নিতেন তা নয়, সেসব প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও জিতে নিতেন অনেক সময়। আর এসব কাজে থাকতে থাকতে এক সময় তার মনে হলো অন্য অনেকের মতো তিনিও একটা রোবট বানাতে পারেন। তবে তার রোবট হবে গতানুগতিক রোবট থেকে একটু আলাদা। আর সে ল্য নিয়েই ২০১৮ সালের মে মাসে রোবট তৈরির কাজ শুরু করেন। যা প্রাথমিকভাবে শেষ করেন ২০১৯-এর জানুয়ারিতে। রোবটের নাম রাখা হয় রবিন। আমেরিকার একটি কার্টুন শোর সুপার হিরোর নামানুসারে এই নাম দেওয়া হয় রোবটটির। এরপর থেকেই রবিনের পরিচিতি ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশজুড়ে। ক্ষুদে বিজ্ঞানী শুভ কর্মকার বলেন, ‘ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে এবং ইউটিউব থেকে বিভিন্ন ভিডিও দেখেই রোবট রবিনকে এভাবে তৈরি করতে পেরেছি। আগামীতে আমি একে আরো উন্নত করতে কাজ করছি। বর্তমানে তার দৃষ্টিশক্তি নেই, আগামীতে সে সকলকে দেখতে পারবে। সেই সঙ্গে কারো সঙ্গে একবার পরিচয় হলে তাকে পরবর্তীতে দেখলে চিনতে পারবে এবং বিভিন্ন সমস্যা নিজে দেখে সমাধান করতে পারবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমার এই রোবট অনেক কিছু নিজে নিজেই শিখতে পারে। এর জন্য কোন কোডিংয়ের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ কিছুটা সেল্ফ লার্নিং আয়ত্ত করে নিয়েছে।’ শুভ কর্মকার উপজেলা, জেলা ও ঢাকায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং সম্মাননা জিতেছেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, শুভ এই উপজেলার গর্ভ। সে যে বাংলায় ও ইংরেজীতে কথা বলা রোবট তৈরী করেছে এটা আমাদের দেশের জন্য একটি সাফল্য। তার এ কাজের জন্য আমার উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

 1,417 total views,  2 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018