আসলে কোনটি ‘মহামারি’! - বিডি বুলেটিন আসলে কোনটি ‘মহামারি’! - বিডি বুলেটিন

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কোস্টগার্ডের অভিযানে ৫শ কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ, চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা মোংলার প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা নিজেই করোনায় আক্রান্ত! রায়ের একদিন পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি সৈয়দপুরে গ্রেপ্তার আগামী ৫ বছরে নতুন করে ১০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে: পলক প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও পাননি, মা-বাবার সামনেই সন্তানকে পিটিয়ে হত্যা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত চরফ্যাশনে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নারী-পুরুষ সহ আহত ৫ কুয়াকাটায় অপরাধ প্রবণতা নির্মূলে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা বাউফলে গ্রামীণফোনের মেশিন রুমের ২২ লাখ টাকার মালামাল চুরি সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক
আসলে কোনটি ‘মহামারি’!

আসলে কোনটি ‘মহামারি’!

Print Friendly, PDF & Email

সড়কে মৃত্যু নাকি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কোনটা ‘মহামারি’ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুতর প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কেননা লকডাউনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যস্ত সড়ক-মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা। তারপরও কমছে না সড়ক দুর্ঘটনা।

করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে কার্যত লকডাউন চলছে। গণপরিবহন বন্ধ, সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ফার্মেসি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ মানুষের চলাচল সীমিত করতে বন্ধ রাখা হয়েছে গণপরিবহন। তাই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা। এর মধ্যেও বন্ধ হয়নি সড়ক দুর্ঘটনা।

এ পর্যন্ত করোনায় যতজনের মৃত্যু হয়েছে, গত এক মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় এর চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত এক মাসে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন ২১১ জন। এর মধ্যে আরও ২২৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময় নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ২ জন আহত এবং ২জন নিখোঁজ হয়েছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

রোববার (৩ মে) বিকেলে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কোনো কিছুই থামাতে পারছে না সড়ক দুর্ঘটনা। গত ২৬ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী পরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও লকডাউনের এক মাসে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ২১১ জন নিহত ও ২২৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময় নৌ-পথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ২ জন আহত এবং ২জন নিখোঁজ হয়েছেন।’

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু শুধু একটি পরিবারে গভীর শোক, ক্ষত সৃষ্টি করে না, আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে ফেলে ওই পরিবারকে। কোনো কোনো দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি প্রাণ হারান। তখন ওই পরিবারের যে কী অবস্থা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করে তাদের পরিবারের অবস্থা আরও করুণ, আরও শোচনীয়।

এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার ফলে বছরে গড়ে বাংলাদেশের জিডিপির শতকরা দেড় ভাগ নষ্ট হয়, যার পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বিগত ১৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ হাজার মানুষ। আর দুর্ঘটনাজনিত মামলা হয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার। এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা এখন অন্যতম জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সঙ্গতকারণেই এই সমস্যা থেকে মানুষজনকে মুক্ত রাখার সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

দুর্ঘটনার কারণগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলেই কমবেশি জানেন। এর মধ্যে রয়েছে- দেশে সড়ক অবকাঠামো এবং স্থলভাগের আয়তন অনুপাতে জনসংখ্যার চাপ বেশি। সড়কের তুলনায় মোটরযানের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। একই সড়কে চলছে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, রিকশাসহ নানা রকম মিশ্র যানবাহন। উপরন্তু সড়ক ও মহাসড়কগুলো ত্রুটিপূর্ণ। দেশব্যাপী মহাসড়কের অনেক স্থানেই রয়েছে বিপজ্জনক বাঁক। এসব বাঁকের কারণে প্রায়শই সেসব জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটছে।

এছাড়া অবকাঠামোগত কারণেও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি খুব বেশি বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি দুর্ঘটনা মহামারির আকার ধারণ করার জন্য যেসব কারণকে দায়ী করা হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো। এই সমস্যা বারবার চিহ্নিত হলেও এর কোনো প্রতিকার নেই।

প্রতিবার দুর্ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদন কোনোদিন আলোর মুখ দেখে না। আর সঙ্গত কারণেই দোষীদের শাস্তিও হয় না। সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু শ্রেণির মানুষ- যারাই দুর্ঘটনার শিকার হন না কেন কোনো একটি ঘটনার বিচার হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত মেলাভার। আর বিচারহীন, প্রতিকারহীন অবস্থায় কোনো কিছু চলতে থাকলে সেটির পুনরাবৃত্তিও তো ঘটবেই। প্রশ্ন হচ্ছে, কত প্রাণ গেলে, মৃত্যুর মিছিল কত দীর্ঘ হলে তবে থামবে এই হত্যাযজ্ঞ?

সড়ক দুর্ঘটনা হয় না এমন দেশ নেই। কিন্তু দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি যত কমিয়ে আনা যায় সেটিই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 304 total views,  1 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018