ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্যে নজর কাড়ছে ‘শতরঞ্জি’ - বিডি বুলেটিন ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্যে নজর কাড়ছে ‘শতরঞ্জি’ - বিডি বুলেটিন

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:০৭ অপরাহ্ন

ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্যে নজর কাড়ছে ‘শতরঞ্জি’

ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্যে নজর কাড়ছে ‘শতরঞ্জি’

Print Friendly, PDF & Email

রঙ-বেরঙের সুতার তৈরি পাপোশ, ম্যাট, ব্যাগ ও বিছানার চাদরসহ আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সব পণ্য নিয়ে নতুন রূপে বাণিজ্য মেলায় হাজির হয়েছে কারুপণ্যের ‘শতরঞ্জি’। দেশি-বিদেশি ক্রেতা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে ঐতিহ্যবাহী এসব পণ্য। মেলা উপলক্ষে রয়েছে একটি কিনলে একটি ফ্রি ছাড়াও বিশেষ মূল্যছাড়।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পাওয়া যাচ্ছে শতরঞ্জির সব পণ্য।

হস্তশিল্প একটি জাতির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে। যার বড় উদাহরণ শতরঞ্জি। রাজা বাদশাদের আমলে দস্তরখানা বা মেঝেতে বিছিয়ে খাওয়া ও বিছানার চাদর হিসেবেও ব্যবহার হত এসব পণ্য। জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তনের পাল্টে গেছে শতরঞ্জির ব্যবহার। মেলায় শ্যাগী, ফ্লোর ম্যাট, একরেলিক ফ্লোর ম্যাট, ডোর ম্যাট, জুট ব্যাগসহ রয়েছে শতাধিক পণ্য। রংপুর অঞ্চলের দরিদ্র নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী এসব হস্তশিল্প দেশের গন্ডি পেরিয়ে সুনাম ছড়িয়েছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্ব বাজারে।

মেলায় শতরঞ্জি সামলে গেলেই চোখে পড়বে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি দৃষ্টি নন্দন দোতলা বিশিষ্ট প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন। বাঁশ আর বাঁশের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্পের ডিজাইন দর্শনার্থীদের মন কাড়ছে। প্যাভিলিয়নে ঢুকতেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নজর পড়বে ঐতিহ্যবাহী রঙ বেরঙের সুতা আর গ্রাম বাংলার প্রকৃতি নির্ভর নকশার সমন্বয়ে কাঁচা পাট, পাটের সুতলিসহ দেশি কাঁচামাল দিয়ে তৈরি শতরঞ্জি, পাপোশ আর বিভিন্ন ধরনের ম্যাট।

প্যাভিলিয়নের দ্বিতীয় তলায় নকশা করা কারুপণ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যাগ, বিছানার চাদর, শাড়ি, লুঙ্গি, কামিজ, নকশি কাঁথাসহ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য। এছাড়া কুমারের তৈরি মাটির পাত্র, কামারের তৈরি দা, বটি, ছুরি, জেলেদের মাছ ধরার জাল ও কাঠশিল্পের বিভিন্ন পণ্য।

এসব পণ্যে মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া একটি কিনলে একটি ফ্রি, দু’টি কিনলে দু’টি ফ্রিসহ রয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার।

বাণিজ্য মেলায় শতরঞ্জির প্রধান বিক্রয়কর্মী মো. আব্দুল জলিল জাগো নিউজকে জানান, ঐতিহ্যবাহী দেশীয় এ হস্তশিল্প গ্রাম-বাংলার প্রাকৃতিক রূপ তুলে ধরেছে। শতরঞ্জি সবসময় ঐতিহ্যবাহী পণ্য তুলে ধরে। এবার মেলায় সেই বিষয়েই জোর দেয়া হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তনে শতরঞ্জির ব্যবহার প্রণালিও পাল্টেছে।

তিনি বলেন, এক সময় বাঁশের তৈরি ছোট ঝাড় শুধু গৃহস্থলি কাছে ব্যবহার হত। এখন এটি হোম ডেকোর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বিদেশেও এর চাহিদা বেশ। শুধু ঝাড় নয়, এ রকম অনেক পণ্য এখন হোম ডেকোর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি পণ্য আমদানির কারণে ঐতিহ্যবাহী অনেক পণ্য হারানোর পথে। যেমন- কুমারের তৈরি মাটির পাত্র, কামারের তৈরি দা, বটি; গ্রামে তৈরি হচ্ছে কিন্তু বাজার পাচ্ছে না। এগুলো আমরা তুলে ধরছি। এছাড়া শতরঞ্জির পণ্যগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র নারীদের তৈরি। এতে করে একদিকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান হচ্ছে অন্যদিকে দেশীয় পণ্যের প্রসার হচ্ছে।

মেলায় শতরঞ্জির প্যাভিলিয়নে ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৬ হাজার টাকার পর্যন্ত পণ্য রয়েছে। ছোট ম্যাট প্রতিপিস ৮০ টাকা; ২টা কিনলে ২টা ফ্রি। মার্থ ম্যাট প্রতিপিস ৯৫ টাকা; ২টা কিনলে ২টা ফ্রি। ৩৮০ টাকার আউট ডোর ম্যাট ১টা কিনলে ১টা ফ্রি। ফ্লোর ম্যাট বিক্রি করছে ১২শ’ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকায়। ১৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিভিন্ন প্রকার ব্যাগ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মেলা উপলক্ষে কারুপণ্য শতরঞ্জিতে এসব পণ্যে দেয়া হচ্ছে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ মূল্যছাড়।
প্যাভিলিয়নটি থেকে জানানো হয়, মেলায় অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন নতুন পণ্য ক্রেতা-দশনার্থীদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়া। শতরঞ্জিতে যেসব পণ্য রয়েছে তার সবই গ্রামের দরিদ্র নারীদের তৈরি। এছাড়া এসব পণ্য পরিবেশ বান্ধব। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাসহ এশিয়ার প্রায় ৪০টি দেশে এসব পণ্য রফতানি হচ্ছে।

মেলায় শতরঞ্জির প্যাভিলিয়নে আসা ক্রেতা তামান্না জাফরিন জানান, প্রতিবছরই শতরঞ্জির ম্যাট ও বিভিন্ন পণ্য কিনতে বাণিজ্য মেলায় আসি। এবারও এসেছি। কারণ, মেলায় শতরঞ্জির অনেক পণ্য থাকে যা পছন্দমত কেনা যায়। এছাড়া অনেক ছাড়ও থাকে।

তিনি আরও বলেন, শতরঞ্জির কারুপণ্যগুলো আমাদের দেশীয় পণ্য, ফলে ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাই এখান থেকে বার্থ ম্যাট ও ফ্লোর ম্যাট কিনলাম। ঘুরে দেখছি, পছন্দ হলে আরও কিছু পণ্য কিনব।

 526 total views,  2 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018