গাইবান্ধা ৩ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী এ্যাডঃ উম্মে কুলসুম স্মৃতি - বিডি বুলেটিন গাইবান্ধা ৩ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী এ্যাডঃ উম্মে কুলসুম স্মৃতি - বিডি বুলেটিন

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধা ৩ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী এ্যাডঃ উম্মে কুলসুম স্মৃতি

গাইবান্ধা ৩ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী এ্যাডঃ উম্মে কুলসুম স্মৃতি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা -৩ (সাদুল্লাপুর -পলাশবাড়ী) আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নৌকার মাঝি হলেন কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি । গাইবান্ধা ৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্ল্যাপুর) আসনের উপ- নির্বাচনে বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাধারণ-সম্পাদক এ্যাড উম্মে কুলসুম স্মৃতি কে নৌকা মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত করলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা। শবিবার(১৫ ফেব্রুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাশী ২৫ জনের সাক্ষাৎকার শেষে ১০ টা ৪০ পর চুড়ান্ত ভাবে (দশম)জাতীয় সংসদের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এ্যাড উম্মে কুলসুম স্মৃতির নাম অনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে ঘোষণা করা হয়। সরকার দলীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য ডাঃ মোঃ ইউনুস আলী সরকার গত ২৭ ডিসেম্বর মৃত্যুতে এ আসন শূন্য হয়। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালে নির্বাচনে পরপর ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী এই দুই উপজেলা নিয়ে ৩১, গাইবান্ধা-৩ আসনটিতে সাদুল্লাপুর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও পলাশবাড়ী উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন সর্বমোট ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন গঠিত। গত নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিলো ৪ লক্ষ ১১ হাজার ৮৫৪ জন। এর আগে অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. ইউনুস আলী সরকার ১ লাখ ২১ হাজার ১৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন । সম্প্রতি তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়। যার ফলে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ আসনে।

এরইমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর -পলাশবাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি নৌকার মাঝি হওয়ায় সাদুল্লাপুর পলাশবাড়ী আসনের সাধারন ভোটারগনের ধারনা,দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। স্মৃতি সব সময় ছিলেন রাজপথে সক্রিয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মনে প্রাণে ধারণ করে বিগত সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জন্য দিনরাত কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কৃষকলীগের শীর্ষ পদে কোনো নারী নেতৃত্ব পেলো। ছাত্রজীবন থেকেই উম্মে কুলসুম স্মৃতি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। ছাত্রজীবন শেষে একজন আইনজীবী হিসেবে ১৯৯৩ সালে ঢাকা বারে যোগদান করেন এবং আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হন। বিগত ২০০০ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সর্বাধিক ভোটে কার্যকরী পরিষদের এক নম্বর সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬-০৭ সালের ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগদান করেন সাধারণ সদস্য হিসেবে। এরপর আইন বিষয়ক সম্পাদক ও পরে ২০১২ সালে কাউন্সিল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বর্তমান সময়ে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গাইবান্ধা জেলা শাখার সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য। উম্মে কুলসুম স্মৃতি ১/১১ শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সংগঠনের মিছিল রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
কর্মজীবন ও রাজনৈতিক জীবনে উম্মে কুলসুম স্মৃতি তৃনমূল থেকে উঠে এসে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ-এর মনোনয়নে গাইবান্ধা- জয়পুরহাট জেলার জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত নারী আসন-৪ নং আসন থেকে ১ম বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন।

এছাড়াও জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপরেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য।নিয়মিত আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন । ২০০১ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বারের) সদস্য পদ লাভ করেন। আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন সময়ে তিনি এপিপি, এডিশনাল পিপি ও পিপি (দুর্নীতি দমন কমিশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কলেজ জীবনে খেলাধুলায় বিশেষ করে কাবাডি খেলায় তিনি জেলার চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। নারীনেত্রী স্মৃতি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সফর সঙ্গীও ছিলেন। কয়েকটি দেশে সেমিনারে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। সাধারন সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি ১৯৬৩ সালের ১ জানুয়ারি গাইবন্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার জামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মোকসেদ আলী প্রধান মধু ও মা মরহুমা মাহমুদা বেগম প্রধান। পরে পারিবারিক ভাবে মাহবুর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্বামী পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
বিগত ১৯৮৬ সাল থেকে টানা ৩০ বছর এ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিলো। গত ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ৬ বার এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন জাতীয় পার্টির ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী। কিন্তু মহাজোটের কারণে জাতীয় পার্টির ঘাঁটিতে ৩০ বছরের অউন্নয়নশীল ছয় বারের এমপি ডঃ টিআইএম ফজলে চৌধুরী মৃত্যুর পর গ্রহণযোগ্য নেতা ডাঃ মোঃ ইউনুস আলী সরকার আ’লীগের মনোনয়ন নিয়ে ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকারকে পরাজিত করে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কিছুটা ছোঁয়া দিলেও শেষ পযর্ন্ত মরণব্যাধি রোগের কাছে হার মানতে হলো। উক্ত আসনে সরকার দলীয় একাধিক নেতার দৌড়-ঝাঁপের কারণে বিএনপিকে উপায়হীন হয়ে বিকল্প পথ বেছে নিতে হতে পারে বলেও জানা গেছে। তারাও লন্ডন, ঢাকায় জোর লবিং চালাচ্ছেন। বিএনপি নেতা ডাঃসাদিককে নিয়ে এক ধরণের উন্মাদনা থাকলেও পিছিয়ে নেই উপজেলার সুযোগসন্ধানী জাসদের খাদেমুল ইসলাম খুদির।
আসন্ন উপ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মনোনয়ন বোর্ডের সকল সদস্য ও সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, পলাশবাড়ী সাদুল্যাপুর উপজেলার আওয়ামীলীগের ঐক্যবদ্ব থাকার আহ্বান জানান। সকল দলমত নির্বি শেষে নৌকার পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানান।

 1,533 total views,  4 views today

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018