চরফ্যাশনের চার ইউনিয়নে ফণী ও বুলবুলের আঘাতে প্রাণ গেল ৩৭ - বিডি বুলেটিন চরফ্যাশনের চার ইউনিয়নে ফণী ও বুলবুলের আঘাতে প্রাণ গেল ৩৭ - বিডি বুলেটিন

সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হেলমেট পরলেই পুরস্কার ১ কেজি পেঁয়াজ সিএনজি-ট্যাক্সি চালকদের ‘পরিচিতি কার্ড’ দিল সিএমপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন আজ বানারীপাড়ায় ট্রিপল মার্ডা‌রের ঘটনায় বা‌ড়ির মা‌লি‌কের স্ত্রীকে গ্রেফতার ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে আ‌ধিপত্য বিস্তার‌কে কেন্দ্র ক‌রে হামলায় আহত ৪ ব‌রিশা‌লের ট্রিপল হত্যাকান্ডের গ্রেপ্তারকৃত দুই অাসামী ১৬৪ ধারায় স্বীকা‌রো‌ক্তিমূলক জবানব‌ন্দি দি‌য়ে‌ছে অাদাল‌তে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উদ্বোধন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকের মৃত্যু সুনামগঞ্জে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত রাজশাহী জেলা আ’লীগের সভাপতি মেরাজ মোল্লা, সম্পাদক দারা
চরফ্যাশনের চার ইউনিয়নে ফণী ও বুলবুলের আঘাতে প্রাণ গেল ৩৭

চরফ্যাশনের চার ইউনিয়নে ফণী ও বুলবুলের আঘাতে প্রাণ গেল ৩৭


শাহাবুদ্দিন সিকদার, চরফ্যাশন(ভোলা)প্রতিনিধি॥

ফণী ও বুলবুলের আঘাতে প্রাণ গেল চরফ্যাশন উপজেলা চারটি ইউনিয়নে ৩৭প্রাণ। বুলবুলে খাওয়া তাজা ১০টি জেলের লাশ পরিবারের কাছে আসলে পরিবারসহ এলাকায় শোকে আকাশ-পাতাল ভারী হয়ে উঠছে । গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন সময় স্ব-স্ব পরিবার জানাযা শেষে লাশ দাফন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক বেলা ১১টায় মোট নিহত ১০ পরিবারের মাঝে ২৫হাজার টাকা করে মোট আড়াই লাখ টাকা বিতরণ করেন।
মঙ্গলবার সরেজমিন আহম্মদপুরের পূর্ব ফরিদাবাদ গ্রামের ইয়াছিন মাঝির ছেলে নজরুল ইসলাম(২৬) বাড়ীতে গেলে স্বজনদের আহাজারি কান্নার শব্দে নিথর নিস্তব্দ হয়ে যায় পুরো এলাকায়। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নজরুলের পিতা ইয়াছিন মাঝি ও মা ইয়ানুর বেগম। লাশগুলো দেখে চোখের পানি কেউ ধরে রাখতে পাড়েনি। যেন কান্নার রোল বইছে।
জানা গেছে, গত রবিবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উপেক্ষা করে চাদপুর মৎস্যঘাটে ইলিশ বিক্রি করে চরফ্যাশনে আসার পথে ইলিশা এলাকা ডুবে যাওয়া পর ১২জন জীবিত সোমবার গভীর রাতে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকা নদীতে ভাসমান অবস্থায় সাগরের ইলিশ মাছ ধরার জেলে ট্রলার নৌকা থেকে ১০জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশগুলো হচ্ছে- চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার আবুবক্করপুর ৩নং ওয়ার্ডের মৃত নুরুল হকের ছেলে কামাল দালাল (৩৫), একই এলাকার কাদের মোল্লার ছেলে হাসান মোল্লা (৩৮), আহম্মদপুর গ্রামের কাদের বেপারীর ছেলে নূরনবী বেপারী (৩০), ছলিমন মাতব্বরের ছেলে মফিজ মাতব্বর (৩৫), পূর্ব ফরিদাবাদ গ্রামের ইয়াছিন পাটোয়ারীর ছেলে নজরুল ইসলাম (২৬), একই এলাকার মৃত জামাল বিশ্বাসের ছেলে রফিক বিশ্বাস (৪৪) আবদুল্লাহপুর গ্রামের মোসলেউদ্দিন মাঝির ছেলে কবির হোসেন (৪০), ইসমাইল খানের ছেলে বিল্লাল (৩২), চরফ্যাশন উপজেলা সীবা চৌমহনী এলাকার মৃত মুজিবল হক মুন্সীর ছেলে আব্বাস মুন্সী (৪৪) । এছাড়া রোববার রাতে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম খোরশেদ আলম(৪৫)।
বেঁচে আসা বোর্ড ম্যানেজার সামিম কালের কন্ঠকে কান্না কন্ঠে বলেন, চাদপুর থেকে প্রায় ৩০লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে নদী পথে ট্রলারটি ছেড়ে আসি। ২৪জন লোকের মধ্যে ৩জন ছিল বোড মালিক পক্ষের লোক বাকি২১জন ছিল মাঝি জেলে। ১১জন জেলে নৌকার গুদামে গুমাছিল। ঝড়ের কবলে পড়েও তাদেরকে একাধিক বার গুম থেকে জাগানো হয়েছে তারা উঠেনি। অবশেষে নৌকাটি কাত করে উপর করে ফেলে। এতে ১১জন বাদে আমরা সাতার কেটে বেঁচে যাই।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার এসআই কমল চন্দ্র দে জানান, রোববার বুলবুলের ঝড়ের কবলে পড়ে ২৪ জন জেলেসহ মেঘনায় ডুবে যায় একটি মাছ ধরা ট্রলার। এসময় স্থানীয় কোস্টগার্ডের তৎপরতায় ১৩ জন উদ্ধার হয়। তবে ১১ জন নিখোঁজ ছিল। এই পর্যন্ত ১১জনের মধ্যে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনের খোঁজ মিলেনি।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন হলরুমে জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন আখন নিহত স্বজনদের মাজে নগদ ২৫হাজার টাকা এবং বুলবুল ঘূণিঝড় ক্ষতিগ্রস্থদেরকে ছয়হাজার টাকার চেক এবং ২বান্ডিল করে ঢেউ দিন দেয়া হয়েছে। নিবন্ধদিত জেলেকে মৎস্য বিভাগ থেকে ১লাখ করে টাকা দেয়া হবে।
সম্প্রতি একই এলাকার আহম্মদপুর গ্রামের গত ৪ জুলাই/১৯ইং তারিখে মাছ শিকারের জন্যে সাগরে যায় মনির মাঝি ও শাহাজান মাঝি। ৬ জুলাই ফণীর তান্ডবে মেঘনার বালুয়ার দক্ষিণপাশে চিকন দমা নামক স্থানে নৌ-দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শাহাজান মাঝি ১৪জেলে ও মনির মাঝির ১৫জেলে নিয়ে নৌকা ট্রলার ডুবে যায়। কোস্টগার্ড এবং মৎস্য বিভাগের নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে মনির মাঝিসহ দু’জন জীবিত এবং ৭জেলের মৃত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ৪মাস অতিক্রম হলেও বাকি ২০জেলের কাউকে এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য অফিস নিখোঁজদের তালিকা সংগ্রহসহ বিভিন্ন অনুদানের চেষ্টা করছেন। তখনও নিহতের ৭পরিবারকে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে নগদ ২৫হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়। মোট ২৯ নিখোঁজ সহ নিহত ও জীবিত জেলে পরিবারকে ৬০কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। বেঁচে আশা দুই জেলেকে চিকিৎসার খরচ ভাবত ২০হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।
ওই দু‘ নৌকার নিখোঁজ জেলেরা হলেন বেলায়েত হোসেন(৩১), সেলিম(৩০), হযরত আলী(৩৩), তসির(৩০), রফিক জমাদার(৩২)ও জিহাদ(২৮)।
আহম্মদপুর এলাকার নৌকার মাঝি শাহাজান(৫০), জামাল মিস্ত্রী(৩৫), রুবেল(২২), আবদুল হাই(২৫), আজগর জমাদার(৫০), শাহাজান(৪০), জসিম(২০), হোসেন(৪০), রবিউল(৩৫), নাছির(৫০), সুলতান মাঝি(৫০), রহিজল(১৫), কবির(৪০)ও জলিল(৪৫)।
আহম্মদপুর গ্রামের নিহত রফিকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, আংগ ইউনিয়নেরই ৩/৪মাসের মধ্যে নদী খাইছে ৩৩টি তাজা প্রাণ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018