টিনশেডের ভাড়া বাড়ি থেকে কোটিপতি যুবলীগ নেতা আশরাফ - বিডি বুলেটিন টিনশেডের ভাড়া বাড়ি থেকে কোটিপতি যুবলীগ নেতা আশরাফ - বিডি বুলেটিন

রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
টিনশেডের ভাড়া বাড়ি থেকে কোটিপতি যুবলীগ নেতা আশরাফ

টিনশেডের ভাড়া বাড়ি থেকে কোটিপতি যুবলীগ নেতা আশরাফ

রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ বাবু নগরীর ডাবতোলা হাজরা পুকুর এলাকায় ছোট্ট একটি ওষুধের দোকানের মালিক ছিলেন। পাশাপাশি দোকানে দোকানে সাইকেল নিয়ে স্যালাইন বিক্রি করতেন। সেই থেকে কোনোমতে সংসার চলত। নগরীর শিরোইল এলাকায় একটি টিনশেডের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এক সময়।

এই আশরাফ বাবু ২০১২ সালের দিকে রেলওয়ের বড় ঠিকাদার শহিদের মাধ্যমে রেলভবনে ঢুকেন ক্যাডার হিসেবে। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে শহিদকে প্রভাব খাটিয়ে কাজ পাইয়ে দিতে তিনি রেল ভবনে টেন্ডারবাজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে নিজেই রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিনা টেন্ডারে কাজ বাগিয়ে নিতে শুরু করেন। এখন কোটি কোটি টাকার মালিক এই আশরাফ বাবু। নিজের ফেসবুক পেজে রেলওয়ের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

নগরীর শিরোইল এলাকায় নিজের ব্যক্তিগত আলিশান কার্যালয়ে রয়েছে সিসি ক্যামেরাও। নগরীর আসাম কলোনি এলাকায় বানিয়েছেন বড় বাড়ি। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও রয়েছে তার সখ্য। এই আশরাফ বাবুর উত্থান নিয়ে নগরজুড়ে রয়েছে নানা কথা।

বুধবার রাজশাহী নগরীতে করেছেন দুর্নীতিবিরোধী র্যা লি। স্থানীয় কিছু লোক সংগ্রহ করে এনে বুধবার সকালে এই র্যােলি করেন আশরাফ বাবু। যদিও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে গত কয়েকদিন আগে তাকে শোকজ করা হয়েছে।

বুধবার আশরাফ বাবুর নেতৃত্বে নগরীর শিরোইল কলোনি এলাকা থেকে দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী একটি র্যা লি বের করা হয়। র্যা লিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলোনি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এই কলোনিতেই আশরাফ বাবুর বাড়ি। পরে সেখানে করা হয় সমাবেশ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজের অপকর্ম আড়াল করতে হঠাৎ করেই দুর্নীতিবিরোধী এই র্যাালি করেন আশরাফ বাবু। এ কারণে তার এই র্যাতলিতে নগর আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের অন্য কোনো নেতাদের দেখা যায়নি। কর্মীরাও ছিল না। একটি গোয়ন্দা সংস্থার সূত্র মতে, বিতর্কিত এই নেতা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তার কার্যকলাপের বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধান চলছে।

গত কয়েক বছরে কিভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন তিনি, সে সব ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে আশরাফ বাবুর সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন আশরাফ বাবু।

তিনি বলেন, কিছু লোক আমার কাছে এসেছিল। আমার যা যা আছে, আমি বলে দিয়েছি। কোনোকিছুই লুকাইনি। আমি কোনো অনিয়ম করে টাকা কামাই করিনি। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলি না। বরং মহানগর যুবলীগের সভাপতিসহ যারা নানা অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধেই আমার অবস্থান। আমাকে শোকজও করা হয়েছে অন্যায়ভাবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018