পটুয়াখালীতে প্রথম বারের মতো ডিজিটাল হাট আলো দেখাচ্ছেন খামারিরা - বিডি বুলেটিন পটুয়াখালীতে প্রথম বারের মতো ডিজিটাল হাট আলো দেখাচ্ছেন খামারিরা - বিডি বুলেটিন

বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

পটুয়াখালীতে প্রথম বারের মতো ডিজিটাল হাট আলো দেখাচ্ছেন খামারিরা

পটুয়াখালীতে প্রথম বারের মতো ডিজিটাল হাট আলো দেখাচ্ছেন খামারিরা

পটুয়াখালীতে প্রথম বারের মতো ডিজিটাল হাট আলো দেখাচ্ছেন খামারিরা

Print Friendly, PDF & Email

রিয়াজ মাহমুদ, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

কোভিড-১৯ বদলে দিয়েছে মানুষের জীবন যাত্রার মান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ডিজিটাল পশুর হাট চালু করেছে জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। উন্মুক্ত স্থানের পশুর হার্টে পশু বিক্রি নিয়ে কৃষক ও খামারি হতাশ গ্রস্থ থাকলেও এই অনলাইন পশুর হার্ট তাদেরকে আলো দেখাচ্ছেন। আর উন্মুক্ত স্থানের পশুর হার্টে স্বাস্থ্যবিধি যাতে মানা হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি করা হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা৷ জানাগেছে, বাংলাদেশে অনেক আগে থেকে অনলাইনে পন্য কেনা-বেচা হলেও পটুয়াখালীতে প্রথম বারের মতো ডিজিটাল হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা করবেন অসংখ্য কৃষক ও খামারি। জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজটিতে জেলার বিভিন্ন কৃষক ও খামারির নাম, ঠিকানা, পশুর ছবি ও মোবাইল নাম্বার ডিজিটাল পশুর হার্টের প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। অপেক্ষা এখন ক্রেতাদের জন্য। হাওলাদার ডেইরি ফার্ম ও নার্সারির পরিচালক মো. সুলতান হাওলাদার বলেন, ডিজিটাল পশুর হার্ট সম্পর্কে জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের স্যাররা জানিয়েছেন। করোনাকালীন সময়ে অনলাইন পশুর হার্টে ক্রেতা ও বিক্রেতার উভয়ের জন্যই সুবিধা হয়। এই হার্টে খামারের পশু বিক্রি হলে আমাদের ভালো হবে ও লাভবান হবো। শহরের দুই নম্বর এলাকার খামারি সোবহান জানান, করোনাকালীন সময়ে হার্ট-বাজরে জনসমাগম বেশি হলে সমস্যা হবে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই খতিগ্রস্থ হতে পারে। অনলাইন পশুর হার্টে করোনার ঝুঁকি কম। সকলেই নিরাপদ ভাবে বেচা-কেনা করতে পারবো। অনলাইনে পশু বিক্রি হলে শ্রমিকের খরচ, হার্টের ফরিয়াদের খরচ দেওয়া লাগবে না। খরচ কম হলে লাভ হবে। সচেতন নাগরিক ফারুক শরীফ বলেন, অনলাইন পশুর হার্ট উদ্যোগ ভালো। তবে শঙ্কাও আছে। এমনিতেই অনলাইনে প্রতারকের অভাব নেই এ দেশে। বাটপারদের ধরার কায়দা খুব কম। অধিকাংশ অনলাইন ব্যবসায়ি ঠিকানা ছাড়া শুধু মোবাইল নাম্বার দিয়ে ব্যবসা করে। যদিও মোবাইল নাম্বার দিয়ে প্রতারককে ধরার সুস্পষ্ট তরিকা আছে, কিন্তু সেটার প্রয়োগ খুবই সীমিত। তিনি আরও বলেন, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর রেজিস্ট্রিকৃত খামারিদের তালিকা প্রকাশ করলে ভালো হবে । জনগণ এই তালিকার বাইরে কারো সাথে লেনদেন বা ক্রয় বিক্রয় করবে না। শুধু সরকারি তালিকায় থাকা প্রান্তিক খামারিরাই অনলাইনে বিক্রয় করার অনুমতি পাবে। কোন দালাল, কমিশন এজেন্ট বা তৃতীয় পক্ষ অনলাইনে ক্রয় বিক্রয় করতে যাতে না পারে। যাতে আমরা সাধারণ মানুষ প্রতারিত না হই। জেলা প্রশাসন সুত্রে জানাগেছে, ২০১৯ সালে বাউফল উপজেলায় অস্থায়ী পশুর হার্ট ২২ টি , দুমকী উপজেলায় অস্থায়ী পশুর হার্ট ৫ টি, পটুয়াখালী পৌরসভা এলাকায় অস্থায়ী পশুর হার্ট ৫ টি, সদর উপজেলায় অস্থায়ী পশুর হার্ট ২৩ টি ইজারা নেয় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে। সঙ্গত কারণেই এবার জেলায় পশুহাটের সংখ্যা কমছে। তবে পশুর হার্টে স্বাস্থ্যবিধি যাতে মানা হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা৷ জেলা প্রাণি সম্পদ সুত্রে জানাগেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন খামারে ১৯ হাজার ৫০১টি এবং পারিবারিকভাবে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৮০০টি গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, করোনায় স্বাস্থ্য বিধির কথা চিন্তা করে প্রথমবারের মতো পটুয়াখালীতে অনলাইন পশুর হার্টের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পেজ চালু হয়েছে। অনলাইন পশুর হার্টে কৃষক ও খামারি নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার ও পশুর ছবি থাকবে। যার ফলে ক্রেতা ঘরে বসে ছবি দেখে পছন্দের পশু ক্রয় করতে পারবেন। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতার ভোগান্তি অনেক অংশে কমে আসবে।

 152 total views,  1 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018