বরিশালে সরকারী জমিতে আ'লীগ নেতাদের মার্কেট - বিডি বুলেটিন বরিশালে সরকারী জমিতে আ'লীগ নেতাদের মার্কেট - বিডি বুলেটিন

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

বরিশালে সরকারী জমিতে আ’লীগ নেতাদের মার্কেট

বরিশালে সরকারী জমিতে আ’লীগ নেতাদের মার্কেট

ডেক্স রিপোর্ট, বরিশাল নগরীর উপকণ্ঠ চরবাড়িয়ার তালতলী বাজারে গণপূর্ত বিভাগের সাড়ে ৮ একর জমি ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দখল করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে পর্যায়ক্রমে শতাধিক আধাপাকা স্থাপনা তৈরি করে গড়ে তোলা হয়েছে মার্কেট। সেই মার্কেটের ভাড়া বাবদ মাসে লাখ লাখ টাকা নিজেদের পকেটে পুরছেন তারা। এ দখলদারিত্ব দেখেও না দেখার ভান করছেন গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীলরা। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশেই কোটি কোটি টাকার এ জমি বেহাত হয়েছে। আর দখলদারিত্বে শীর্ষে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চরবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব হোসেন সুরুজ ও তার ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম কবির। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সুরুজের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

বরিশাল নগরীর সদর রোড থেকে সড়কপথে তালতলী বাজারের দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। তালতলী নদীর তীরেই গণপূর্তের সাড়ে ৯ একর জমি। নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া মৌজার ৪১নং জেএল ৩নং খতিয়ানের (দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮১, ২৪৪, ২৪৫ ও ২৪৬) সাড়ে ৯ একর জমির মালিক গণপূর্ত বিভাগ। তার মধ্যে এক একরের মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। বাকি সাড়ে ৮ একর পুরোই অবৈধ দখলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাড়ে ৯ একর জমির মধ্যে ৫ একর দখল করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান সুরুজ। তিনি সেখানে বালু ভরাট করে মাছবাজার ও আধাপাকা স্থাপনা তুলে ভাড়া দিয়েছেন। সুরুজের মালিকানায় আছে অর্ধশত দোকানঘর ও বালুর খলা। লাগোয়া পুকুর ও নিচু জমি ভরাট করে চেয়ারম্যানের ভাই গোলাম কবিরের দখলে প্রায় দুই একর জমি। যেখানে তিনি দোকান তুলে ভাড়া দিয়েছেন, তিনটি বালুর খলা করে একটি নিজে চালাচ্ছেন, অন্য দুটি ভাড়া দেওয়া। এছাড়া গণপূর্তের জমিতে থাকা ৩টি পুকুরের আড়াই একর জমি দখলে রেখেছেন ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার ফিরোজ গাজী। যদিও তার দাবি, এটি লিজ নেওয়া।

গতকাল শুক্রবার তালতলী বাজারে সরেজমিনে গেলে, ওই জমিতে থাকা স্থাপনাগুলো চেয়ারম্যান সুরুজ ও তার লোকজনের বলে সবাই জানালেও চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক ব্যবসায়ী জানান, সব জমি চেয়ারম্যান ও তার স্বজনদের দখলে। তিনিই গণপূর্তের স্থানীয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ জমি দখল করেছেন।

এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে বরিশাল গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী অলিবার গুদা দাবি করেন, তালতলী বাজারে বেদখল জমির বিষয়টি অনেক আগে থেকেই গণপূর্তের ঊর্ধ্বতন দপ্তরে জানানো হয়েছে। দখলদার উচ্ছেদে কোনো নির্দেশনা আসেনি। মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিলে জমি দখলমুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এখন ৫২ জন দখলদারের তালিকা করে জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে।

গণপূর্তের ৫২ জন দখলদারের তালিকা প্রসঙ্গে ওই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলেন, ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের দখলদার দেখিয়ে তালিকা বানানো হয়েছে। চেয়ারম্যানের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী গণপূর্ত ওই তালিকা করেছে।

তবে এ ধরনের কোনো তালিকা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। তিনি বলেন, তিনি কোনো তালিকা পাননি। তাছাড়া সরকারি জমি দখল হলে উচ্ছেদের ব্যাপারে সংশ্নিষ্ট দপ্তরকে উদ্যোগী হতে হবে। এরপর জেলা প্রশাসন উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেবে।

সূত্রঃ- সমকাল

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018