বাউফলে ৩৯ বাড়িতে লাল নিশানের সিদ্ধান্ত, করোনা সন্দেহে যুবক সেবাচিমে - বিডি বুলেটিন বাউফলে ৩৯ বাড়িতে লাল নিশানের সিদ্ধান্ত, করোনা সন্দেহে যুবক সেবাচিমে - বিডি বুলেটিন

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

বাউফলে ৩৯ বাড়িতে লাল নিশানের সিদ্ধান্ত, করোনা সন্দেহে যুবক সেবাচিমে

বাউফলে ৩৯ বাড়িতে লাল নিশানের সিদ্ধান্ত, করোনা সন্দেহে যুবক সেবাচিমে

রিয়াজ মাহমুদ, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর বাউফলে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে (নাজিরপুর ইউপির নিমদী গ্রামের হেমায়েত উদ্দিনের ছেলে মহিউদ্দন নোমান (২৫) এক যুবককে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে উপজেলার ল্যাংড়ামুন্সিরপুল এলাকার ওই যুবকের শশুড়বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন। হোম কোয়ারেন্টেনা থাকা উপজেলার ৩৯ বাড়িতে লাশ নিশান টানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয়রা জানান, ৫-৬ দিন আগে ঢাকা থেকে শরীরে জ্বর নিয়ে এলাকায় এসে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সোমবার বিকেলে যান তিনি শ্বশুরবাড়ি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে পরামর্শ নেন এক ডাক্তারের। ডাক্তার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে ঘরে থাকতে বলেন তাকে। বিকালে কাশির সঙ্গে বমি হলে ফের তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) করোনাভাইরাসের পরীক্ষার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার। কিন্তু তিনি শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে কয়েকজন বলেন, করোনা পজিটিভ হলে, দুই এলাকার মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। হুমকিতে পড়বে নিজ বাড়িসহ শশুড় বাড়ি এলাকার লোকজন।

এ খবর লেখা পর্যন্ত (সকাল ১১টা : ৫৩ মিনিট) বরিশাল চেবাচিম হাসপাতাল থেকে মোবাইলফোনে ওই যুবকের সঙ্গে থাকা তার শশুড় (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম) মাও. মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘মানুষ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। বাড়ি আসার পরে বাহিরে ঘোরাঘুরি না করে বাসাতেই ছিল সে। ২২ তারিখ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ দেওয়ার পরে তার জর-কাশি কমতে ছিল। হঠাৎ বমি করায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে এনে ভর্তি করলে জরুরি বিভাগের ডাক্তার দেখে আগের ওষুধই চালিয়ে যেতে বলেন। এখন তার (মহিউদ্দিন নোমান) অবস্থা অনেকটা ভাল। জর কিংবা শ্বাস কস্ট নাই। করোনার লক্ষন মনে হচ্ছে না তার। হাসপাতালে একটু পড়েই ডাক্তার দেখবেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি জানার পরে ওই যুবককে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে রাতেই অ্যাম্বুলেন্সে বরিশালে পাঠানো হয়েছে। তার নিজ বাড়ি ও তার শশুর বাড়ি উভয় স্থানে লাল পতাকা টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্বজনদের। এ ছাড়া উপজেলার হোম কোয়ারেনটাইনে থাকা ৩৯ জনের বাড়িতেও লাল পতাকা টানানো হবে। দোকানপাট বন্দে ও বিশেষ সতর্কিকরণে এখনই অভিযানে নামা হচ্ছে।

 744 total views,  3 views today

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018