বৈরি সাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে মানুষ জেগে থাকো - বিডি বুলেটিন বৈরি সাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে মানুষ জেগে থাকো - বিডি বুলেটিন

শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে তারুণ্যের শপথ আগৈলঝাড়ায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই কোন শহীদ মিনার সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় বিআরইউ’র নিন্দা ও প্রতিবাদ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপিকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে ২ দিন ব্যাপি ভাষা স্মারক ও সাহিত্য প্রদর্শণীর উদ্বোধন আগৈলঝাড়ায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে সড়কে প্রাণ গেল স্ত্রীর, স্বামী হাসপাতালে সিএএ মুসলিমদের জন্য ব্যাপক বঞ্চনা তৈরি করবে : যুক্তরাষ্ট্র অস্কার জিতলেন সাকিব! নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে তারুণ্যের শপথ
বৈরি সাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে মানুষ জেগে থাকো

বৈরি সাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে মানুষ জেগে থাকো

ভায়লেট হালদার:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষে ১৬ জানুয়ারী থেকে আমাদের সন্তানেরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে আমরণ আমরণ অনশন করছে। ১৯৭২ সালের ৭ জুন, রেসকোর্স ময়দানে ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ হবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্ম নিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান মুসলমানের ধর্ম পালন করবে। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে। খ্রিস্টান তার ধর্ম পালন করবে। বৌদ্ধও তার নিজের ধর্ম পালন করবে। এ মাটিতে ধর্মহীনতা নাই, ধর্ম নিরপেক্ষতা আছে। এর একটা মানে আছে। এখানে ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না। ধর্মের নামে মানুষকে লুট করে খাওয়া চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করে রাজাকার, আল বদর পয়দা করা বাংলার বুকে আর চলবে না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’
বহু পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম, সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে শীত উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনশন অব্যাহত। একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের দিনেই কেন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করতে হবে? একদিন আগে বা পরে নির্বাচন হলে কার কি ক্ষতি হতো? ৩১শে জানুয়ারীও তো ছুটির দিন, ঐদিনও নির্বাচন হতে পারে!
ফেসবুক মাধ্যমে দেখলাম জ. ই. মামুন নামের একজন সাংবাদিক তার ফেসবুকে দেয়ালে লিখেছেন, ‘সরস্বতী পূজা ৩০ জানুয়ারি সারাদেশে হবে, নির্বাচন তো সারা বাংলাদেশ হচ্ছে না। ঢাকার কতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোট কেন্দ্র এবং তার কতগুলোতে প্রতিবার সরস্বতী পূজা হয়- সেই হিসাব করলেই এটাকে এত বড় ইস্যু করার দরকার হতো না। সবকিছুকে ইস্যু করার জন্য যেন আমরা মরিয়া হয়ে থাকি!’ তার কাছে জানতে চাই, তার ধর্মীয় উৎসবের দিনে তার এলাকায় যদি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হতো তবে কি তিনি একই কথা বলতেন? ঢাকায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারগণ তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন থেকে বিরত থাকবে? আপনার বিবেকবোধ ও বিবেচনা শক্তি মানুষের মানবিক বোধকে আহত করেছে।

বরিশালে বহু বছর ধরে প্রেসক্লাব নির্বাচন হয় ২৫শে ডিসেম্বর। যে দিনটিতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ নিয়েও নেই কোন প্রতিবাদ। কেন প্রেসক্লাবের সদস্যরা এই দিনেই নির্বাচন করে? প্রেসক্লাবের সদস্যরা কি এতই ব্যস্ত থাকেন যে ২৫শে ডিসেম্বর ছাড়া তারা আর কোন ছুটি ভোগ করেন না? বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার। তাদের যেমন ভোট দেবার অধিকার আছে, তেমনি তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনেরও অধিকার আছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের দিনে নির্বাচন মানেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠদের অবিচার। যে কারণে সমাজের মানবিক বোধ সম্পন্ন বিবেকবান মানুষেরা প্রতিবাদ, আন্দোলন ও অনশন অব্যাহত রেখেছে। বেছে বেছে বিভিন্ন সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসবের দিনে কেন ভোটের আয়োজন?
অসাম্প্রাদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকল মানুষের ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সমাজের বিবেকবান মানুষেরা ঐক্যবদ্ধ হোক। সকল প্রকার বৈরি সাম্প্রদায়িক কর্মের বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার ও সচেতনতার সহিত জেগে থাকুক। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য লড়াইয়ে মানুষেরা সামিল হোক। আমরণ এই লড়াই অব্যাহত থাকুক। প্রতিটি বাংলাদেশীর কন্ঠে উচ্চস্বরে উচ্চারিত হোক, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।’
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

183 total views, 4 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018