ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত বৃষ্টি বাঁচতে চায় - বিডি বুলেটিন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত বৃষ্টি বাঁচতে চায় - বিডি বুলেটিন

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত বৃষ্টি বাঁচতে চায়

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত বৃষ্টি বাঁচতে চায়

ছোট্ট মেয়ে বৃষ্টি। বয়স ৯ বছর। সারাক্ষণ হেসে খেলে সময় কেটে যেত তার। বাবা-মায়ের অতি আদরের কন্যা বৃষ্টি মোংলার  ইসমাইল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করত। বাবা দিনমজুর, তাই কোনভাবে টেনেটুনে চলে তাদের সংসার।
সেই বৃষ্টি নামের ছোট্ট মেয়েটি বর্তমানে অন্ধকার জীবনের মূখোমূখি দাঁড়িয়ে আছে। তার শরীরে  বাসা বেঁধেছে ব্রেন টিউমার নামক দূরারোগ্য ব্যাধী। এখন সেই হাসি খুশি মাখা বৃষ্টির  মূখের দিকে তাকালে যে কারোরই চোখে জল চলে আসবে।  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার একটি বেডে তার প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে। আর পাশে বসে প্রতিনিয়ত চোখের জল ফেলছেন বৃষ্টির জন্মধাত্রী মা। বৃষ্টিকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তাদের। সেই স্বপ্ন এখন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টির বাবা দিনমজুরী করে কিছু টাকা সঞ্চয় করেছিলেন তা সবই ইতিমধ্য বৃষ্টির চিকিৎসায় খরচ করেছেন। এখন শূন্য হাতে তার কন্যাকে বাঁচাতে সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

জানা গেছে,মোংলা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সিগনাল টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর শাহ আলম জোমাদ্দারের বড় মেয়ে বৃষ্টি। কয়েকদিন আগে বৃষ্টি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার খাওয়া- দাওয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালে  নিলে  পরিক্ষা নিরীক্ষার পর তার শরীরে ব্রেন টিউমার ধরা পরে।
সাথে সাথে কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃষ্টিকে দ্রুত ঢাকায় নিতে হবে, তার চিকিৎসা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বৃষ্টির চিকিৎসার জন্য করতে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ টাকার প্রয়োজন। দ্রুত  চিকিৎসা করানো না হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। ডাক্তারের কাছে এমন কথা শোনার পর আরো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বৃষ্টির বাবা-মা। কারন এত টাকার যোগান দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সমাজের সচ্ছল মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন বৃষ্টির বাবা। বিকাশে সাহায্য পাঠাতে বৃষ্টির বাবা তার বিকাশ (পার্সোনাল নাম্বার) ০১৯৮৯-৭৮৮৭৬৯ পৌঁছে দিতে চায় বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে।
বৃষ্টির বাবা মোঃ শাহ আলম জোমাদ্দার বলেন, আমি অতি গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। আমার একার পক্ষে মেয়েকে বাঁচানোর টাকা জোগার সম্ভব হচ্ছেনা তাই আপনারা যে যা পারেন আমার মেয়েকে বাঁচাতে আমাকে সাহায্য করুন।

ইসমাইল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডালিম মোড়ল জানান, বৃষ্টি পড়াশোনায় খুবই মনোযোগী। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ায় তার পরিবারের পক্ষে এত টাকা ম্যানেজ করা সম্ভব নয়। তাকে (বৃষ্টি) উন্নত চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগীতা প্রয়োজন।
এখন একমাত্র সবার সহযোগিতাই পারে  বৃষ্টিকে তার স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে। তাই যে যার অবস্থান থেকে আমরা ওর পাশে দাঁড়াই। সহযোগিতার হাত বাড়াই। আমাদের সকলের সহযোগিতায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বৃষ্টি আবারো ফিরে যাবে স্কুলের আঙ্গিনায়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018