মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা - বিডি বুলেটিন মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা - বিডি বুলেটিন

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

এস এম শামীমঃ
২৬ মার্চ, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় দিবস। ২৬ র্মাচ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত আনন্দের নাম। ২৬ মার্চ বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন, এমনকি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে প্রাপ্ত আইনসঙ্গত অধিকারকেও রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দিতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী শুরু করেছিল সারাদেশে গণহত্যা। সেই রাতে হানাদাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, রোকেয়া হল, শিক্ষকদের বাসা, পিলখানার ইপিআর সদরদপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে একযোগে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হত্যা করে অগণিত নিরস্ত্র দেশপ্রেমিক ও দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ২৫ মার্চ রাতেই পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্যরা শুরু করে প্রতিরোধ যুদ্ধ, সঙ্গে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ। মহান সেই স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে অগনিত শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক অভিনন্দন। সাতচল্লিশে ভারত বিভক্তির পর আমাদের এতদাঞ্চলের বাসিন্দাদের উপর যে অপ্রত্য ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও নির্যাতন চাপিয়ে দেওয়া হয় তাহার বিরুদ্ধে জনতার সংগ্রামী কাফেলা বার বার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে। বাঙালীর অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছিলো ৭১’এর ২৬ র্মাচ, এই প্রতিরোধ যুদ্ধই সূচনা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের। ১৯৭১-এ বীর সেনানীদের রক্তে আর বঙ্গ মাতার অশ্রুধারায় ভেসে গিয়েছিল এই দেশের মাটি। শেরে বাংলা ফজলুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলার মানুষ তাহাদের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে অকুতোভয়ে। তার ধারাবাহিকতায় আমরা প্রতিবাদ করে আজ হতে ৪৮ বছর পূর্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পরাধীনতার বক্ষ বিদীর্ণ করে আমরা স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছিলাম। ২৫শে মার্চ ১৯৭১, এই কালো রাত্রিতে বর্বর ইয়াহিয়া বাহিনী ঢাকায় নিষ্ঠুরভাবে বাংলার নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষকে নির্বিচারে হত্যা শুরু করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধরে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু বর্বর বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের নীলনকশা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিঁনি যানতেন তাকে গ্রেফতার করা হবে। তাই তাকে ধরে নিয়ে যাবার আগে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিকে দিকে যে বার্তা প্রেরণ করেছিলেন, সেই বার্তার একটি কপি পেয়েছিলেন আগরতলা যড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী। মহান স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে জাতি সকল বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে শ্রদ্ধা আর বেদনায় স্মরণ করবে মুক্তিযুদ্ধে আত্মউৎর্সগ করা লাখো শহীদ-যোদ্ধাকে। শ্রদ্ধা জানাবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমেদসহ মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী তাদের সহকর্মী জাতীয় নেতাদের। মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের স্মরন করছি গভীর শ্রদ্ধায়।

 171 total views,  3 views today

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018