মূলকাটা পেঁয়াজ উঠলে দাম কমার আশা - বিডি বুলেটিন মূলকাটা পেঁয়াজ উঠলে দাম কমার আশা - বিডি বুলেটিন

বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২০, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

মূলকাটা পেঁয়াজ উঠলে দাম কমার আশা

মূলকাটা পেঁয়াজ উঠলে দাম কমার আশা

Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক:
গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনার পেঁয়াজ প্রধান এলাকা সুজানগর ও সাঁথিয়ার হাটে মণ প্রতি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা করে পেঁয়াজের দাম কমেছে। তবে কৃষকের ঘরে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ না থাকায় এসব হাটের আড়তে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে একেবারেই কম। আর এ কারণেই পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, গত মৌসুমে পেঁয়াজ ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে শিলা বৃষ্টির কবলে পড়ায় কৃষকের অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেননি। তবে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে মূলকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসলে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর পাবনার ৯ উপজেলায় ৫ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর জেলার ৯ উপজেলায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আজাহার আলী জানান, এর মধ্যে শুধুমাত্র সুজানগর উপজেলাতেই উৎপাদন হয় প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। এবারও সুজানগরে মেট্রিক ২ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

সুজানগর উপজেলার উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, আগে যেখানে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হতো, এখন কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক চাষাবাদ করায় বিঘা প্রতি ৫০ থেকে ৬০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। কিন্ত গত মৌসুমে কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অর্ধেক পেঁয়াজ পচে গেছে। এ মৌসুমেও (হালি) দুই লক্ষাধিক মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করছি।

তিনি বলেন, প্রতিবছর এই উপজেলার কৃষকরা মূলকাটা পেঁয়াজ রোপণের পর নভেম্বরের ২য় সপ্তাহ থেকে আবার জমি থেকে তুলে বিক্রি করেন। এ বছর সুজানগর উপজেলায় নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু অসময়ে হঠাৎ করে টানা বৃষ্টিতে জমিতে রোপণকৃত পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় এবং পেঁয়াজ রোপণের জন্য প্রস্তুতকৃত অনেক জমিতে পানি জমে যাওয়ায় এবারে নাবিতে মূলকাটা পেঁয়াজ রোপণ করেন। কাজেই আরও ২ সপ্তাহ পরে আশা করছি মূলকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসবে। কাজেই শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

এদিকে রোববার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে সুজানগরের বৃহৎ পেঁয়াজের হাটের ব্যাপারী আব্দুল কুদ্দুস জানান, এই হাটে প্রতি রোববার ও বুধবার ২০ থেকে ২৫ ট্রাক পেঁয়াজ বিক্রি হয় এবং তিনি নিজে তিন ট্রাক করে পেঁয়াজ কিনে রাজধানীসহ অন্যান্য স্থানে নিয়ে যান। কিন্ত আজ আড়তে পেঁয়াজ না থাকায় মাত্র ২০ মণ পেঁয়াজ কিনতে পেরেছেন।

তিনি জানান, রোববার প্রতি মণ ৭ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হিসেবে পেঁয়াজ কিনেছেন। গত হাটে এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা মণ। দেশে বিমানে পেঁয়াজ আমদানির খবরে এই দাম কমতে পারে বলে তার মতো অন্য ব্যাপারীরা মনে করছেন।

সুজানগর পৌর মেয়র ও ভায়না গ্রামের বড় পেঁয়াজ চাষি আব্দুল ওহাব জানান, তারও ১ হাজার ২০০ মণ পেঁয়াজের মধ্যে ৬০০ মণ পেঁয়াজ পচে গেছে। সুজানগর পেঁয়াজ হাটে এখন পেঁয়াজ নেই। বাস্তবতা বিবেচনা করে হাটের খাজনা নেয়া নিষেধ করা হয়েছে।

সাঁথিয়ার বৃহৎ আতাইকুলা হাটেও দেখা যায় একই চিত্র। তবে ২৪ ঘণ্টায় মণ প্রতি পেঁয়াজের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কমে গেছে। রোববার দুপুরে এই হাটের ব্যাপারী বিঞ্চুপদ সাহার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সকাল থেকে বসে আছি। পর্যাপ্ত পেঁয়াজ নেই। সামান্য কয়েক মণ পেঁয়াজ এনেছিল কৃষকরা। কয়েকজন ভাগ করে নিয়েছি। পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামা করায় তারা লোকসানের মুখে পড়বেন।

এদিকে এ অঞ্চরের পেঁয়াজ চাষি এবং কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মৌসুমের হালি পেঁয়াজ বাজারে আসার আগে বাজার স্বাভাবিক রাখে মূলকাটা পেঁয়াজ। কিন্ত এবারও অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে টানা বৃষ্টির কারণে মূলকাটা পেঁয়াজ তারা নাবিতে রোপণ করেছেন। তবে আগামী দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে মূলকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসলে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। কিন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নাবিতে লাগানো মূলকাটা পেঁয়াজ নিয়েও শঙ্কিত এখানকার কৃষকরা।

সুজানগর উপজেলার গোপালপুরের কৃষক আলাউদ্দিন জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেছেন। এতে প্রতি বিঘায় খরচ পড়েছে ৫০ হাজার টাকার উপরে। মূলকাটা পেঁয়াজ ওঠার পর দাম কমে গেলে তার বিপুল পরিমাণ টাকা লোকসান হবে। গত বছর উৎপাদিত অর্ধেক পেঁয়াজ পচে গেছে। এবার মূলকাটা পেঁয়াজ দিয়ে পুষিয়ে নিতে না পারলে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

পেঁয়াজ চাষিরা জানান, আগাম এই পেঁয়াজ চাষ করে কৃষক একদিকে যেমন লাভবান হন, অন্যদিকে এই পেঁয়াজ বাজারের ভারসাম্যও রক্ষা করে থাকে। কিন্তু এবার সে সম্ভাবনা ভেস্তে গেছে।

সুজানগরের চাষিরা জানান, পদ্মায় আকস্মিক পানি বেড়ে জমি জলমগ্ন হয়ে কৃষককে প্রথম দফায় ক্ষতির মুখে ফেলে। এরপর দুই সপ্তাহের মধ্যে জমিতে জোয়ার আসায় অনেক কৃষকই মাঠের জমি প্রস্তুত করে পেঁয়াজ রোপণের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। অনেকে রোপণও করেছিলেন। কিন্ত গত ২৩ অক্টোবর থেকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে রোপণকৃত পেঁয়াজের জমিতে পানি জমে যায়। পচন ধরে রোপণকৃত পেঁয়াজে। ব্যাপক ক্ষতির শিকার হন কৃষকরা।

 380 total views,  2 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018