মোংলায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় ৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত - বিডি বুলেটিন মোংলায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় ৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত - বিডি বুলেটিন

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:২১ অপরাহ্ন

মোংলায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় ৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত

মোংলায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় ৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত

Print Friendly, PDF & Email

মোংলা প্রতিনিধিঃ
মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় চৌরিডাঙ্গা আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারেনি। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারী) সারাদেশে এসএসসি,দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও মিঠাখালী মাদ্রাসার ৫জন ছাত্র/ছাত্রী প্রবেশ পত্র না পেয়ে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এ মাদ্রাসা থেকে ২২ শিক্ষার্থীর দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহন অনিশ্চয়তা দেখা দিলে অভিভাবকদের চাপের মুখে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় ১৭জন প্রবেশ পত্র পেলেও ৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি। এতে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন অভিভাবক সহ মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা বোর্ড হতে পরীক্ষার প্রবেশ পত্র সংগ্রহে মাদ্রাসা সুপারের অবহেলা ও খামখেয়ালীপনার অভিযোগ করেন তারা। নিয়মিত ক্লাস ও নিয়ম বহির্ভূত ছাড়া বেশী টাকা দিয়ে পরীক্ষা দিতে না পারায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে।

মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের চৌরীডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২০ সালের এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরিক্ষা দেয়ার জন্য রেজিষ্টেশন ও ফরম পূরন করে ২২জন শিক্ষার্থী। নিয়ম অনুযায়ী এসএসসি পরিক্ষার এক সপ্তাহ পুর্বে প্রবেশ পত্র পাওয়ার কথা থাকলেও এ মাদ্রাসায় কাউকেই প্রবেশ পত্র দেয়া হচ্ছিলনা। পরিক্ষার আগের দিন রোববার রাত পর্যন্ত প্রবেশ পত্র না পেয়ে এতে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন।
এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিলে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় পরিক্ষার দিন সোমবার সকাল ৮টায় ১৭ জন পরিক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র হাতে দেয় মাদ্রাসার অফিস সহকারী ওবায়দুল্লাহ। ২২জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ জনের প্রবেশ পত্র না পেয়ে পরিক্ষা দিতে পারেনি এ শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে ওই সুপারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানায় অভিভাবক ও এলাকবাসী। প্রবেশ পত্র না পাওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপের মুখে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন সুপার মাওলানা জালাল উদ্দিন।

সুপার জালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা সেই ৫ শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন, হাফিজুল শেখ. বুলবুল হাওলাদার, নেওয়াজ শেখ ও ওয়ালি উল্লাহ শেখ প্রবেশ পত্র পাইনি বলে সুপারের অবহেলা ও খামখেয়ালীপনাকে দায়ী করেন স্থানীয়রা। পরিক্ষার্থী বুলবুল হাওলাদারে মা মনিরা বেগম জানায়, আমি অনেক আশা করে ছেলেকে মাদ্রাসায় লেখা-পড়া শিখেয়েছি। সোমবার তার পরিক্ষা তাই নতুন টুপি,জামা ও কলম কিনে রেখেছি, নিজে না ঘুমিয়ে রাত জেগে ছেলের ধারে বসে ছিলাম,রাত পোহালেই তার পরিক্ষা। কিন্তু সকালে জানতে পারি আমার ছেলের পরিক্ষার প্রবেশ পত্র আসেনি। সুমাইয়ার বাবা মোঃ শওকত হোসেন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মেয়ে পরিক্ষা দিবে, ভাল লেখা-পড়াও করেছে। মাদ্রাসার পরিক্ষা অনেক রাত জেগে পড়তে হচ্ছে তাই নিজে রাতে মেয়ের পাশে বসে ছিলাম, সাহস জাগিয়েছি জীবনের প্রথম পরিক্ষা, কিন্ত জানতে পারলাম উপজেলায় অভিযোগ দেয়ার কারনে প্রবেশপত্র না পেয়ে পরিক্ষা দিতে পারছেনা সুমাইয়া।
এব্যাপারে সুপারের বিচার ও শাস্তির দাবী চেয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ পাঠিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন,প্রবেশপত্র ইস্যুতে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির জরুরী সভায় এঘটনা আলোচনা হয়েছে। এ সময় সুপার মাওলানা জালাল উদ্দিন মাদ্রাসা ও সভায় উপস্থিত হননি। উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতিতে সুপার আত্মগোপন করেছেন বলেও জানান তিনি। উত্থাপিত এ সকল অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যানেজিং কমিটির সভায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাহাত মান্নান বলেন,চৌরীডাঙ্গা মাদ্রসার দাখিল পরিক্ষায় ২২ পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ শিক্ষার্থী প্রবেশ পত্র না পাওয়ায় শিক্ষা অফিসারকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৫শিক্ষার্থী এবছরের পরিক্ষায় অংশ নিতে না পারার পিছনে কারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

 276 total views,  2 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018