মোংলায় সাংস্কৃতির প্রসার ও বিকাশে অবদান রাখছে সুন্দরবন থিয়েটার - বিডি বুলেটিন মোংলায় সাংস্কৃতির প্রসার ও বিকাশে অবদান রাখছে সুন্দরবন থিয়েটার - বিডি বুলেটিন

বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

মোংলায় সাংস্কৃতির প্রসার ও বিকাশে অবদান রাখছে সুন্দরবন থিয়েটার

মোংলায় সাংস্কৃতির প্রসার ও বিকাশে অবদান রাখছে সুন্দরবন থিয়েটার

মনির হোসেন,মোংলাঃ
দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলার একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাম সুন্দরবন থিয়েটার।নাট্যমোদী ব্যক্তিত্ব স্বদেশ বন্ধু দাসের হাত ধরে ১৯৯৮ সালে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। সৃষ্টির শুরু থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতার কারনে স্বদেশ বন্ধু দাস তাঁর সুন্দরবন থিয়েটারের মাধ্যমে সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ের যেমন-শিক্ষা,পানি ও পয়নিষ্কাশন,শিশু অধিকার রক্ষা,পাচার প্রতিরোধ,পরিবেশ রক্ষায় ও সুন্দরবন সংরক্ষনে সচেতনতা,নারী- পূরুষ বৈষম্য দূরীকরন,দূর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা এসব বিষয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তথা পথ নাটক,পটগান,জারীগান, গম্ভীরা এগুলোর মাধ্যমে গোটা দক্ষিনাঞ্চলে জনসচেতনতা তৈরী ও কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করে চলেছেন। প্রথমে নিজস্ব অর্থায়নে এগুলো করলেও পরবর্তীতে থিয়েটার যাতে মানুষ সম্মানজনক পেশা হিসাবে স্বীকৃতি পায় সেজন্য পেশাদারী থিয়েটার চর্চা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়।যেই কথা সেই কাজ -এরপর বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার সহযোগীতায় সুন্দরবন থিয়েটার শুধু মোংলা বন্দর বা দক্ষিনাঞ্চল নয়, কাজ শুরু করে সারা দেশব্যাপী, তাদের পরিবেশনার সুনামের কারনে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের কল শো অাসতে শুরু করে।সবচেয়ে মজার ব্যাপার সুন্দরবন থিয়েটারের নির্বাহী প্রধান স্বদেশ বন্ধু দাস তাঁর সকল জনসচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক উপাদান হিসাবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে বেছে নেয় দক্ষিনাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সংগীত তথা ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্য মাধ্যাম-পটগানকে এবং আজও তারা পটগান পরিবেশনা করে চলছে।বাঁচিয়ে রেখে দক্ষিনাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নাট্য মাধ্যমকে। সুন্দরবন থিয়েটারের সংগ্রহে বিভিন্ন বিষয়ের পট রয়েছে।গত প্রায় দুই যুগ ধরে বহু চড়াই উৎড়াই এর সম্মুখীন হলেও বন্ধ হয়নি সুন্দরবন থিয়েটারের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বরং দিন দিন আরো বিস্তৃত হয়েছে। এর মধ্যে আনন্দের সংবাদ হলো গত ২০১৬ সালে নতুন শাখা হিসাবে শুরু হয় সুন্দরবন থিয়েটার ঢাকা ইউনিট এর যাত্রা।স্বদেশ বন্ধু দাসের ছোট ছেলে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের স্নাতক (সস্মান) ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাহুল প্রসাদ দাস এর হাত ধরে সুন্দরবন থিয়েটারের ঢাকার ইউনিট আত্ম প্রকাশ করে।বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই নাকি রাহুল প্রসাদ দাসের সুন্দরবন থিয়েটার এর ঢাকা ইউনিট প্রতিষ্ঠা। রাহুল প্রসাদ দাস আরো বলেন,আমি চাই থিয়েটারে অবশ্যই পেশাদারিত্বের ছোয়া থাকা উচিত কারন “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়” তাই পেটে ক্ষুধা রেখে শিল্প সম্ভব না বলে আমি মনে করি। তিনি আরো বলেন, আমার বাবাই আমার প্রেরণা তিনি নিজেও একজন দক্ষ থিয়েটার সংগঠক,নির্দেশক ও অভিনেতা এবং এই কাজগুলি সম্পূর্ন তিনি পেশাদারি মনোভাব নিয়ে করে আমাদের পরিবারকে খুব ভালভাবেই পরিচালনা করেছেন এবং আরো অনেক মফস্বল এর শিল্পীর প্রতিভাকে খুঁজে বের করে তার কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থাও করেছেন তার সুন্দরবন থিয়েটারের মাধ্যমে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য মাধ্যম-পট,জারী,গম্ভীরা আমাদের পরিবেশনার উপাদান, যার পরিবেশনার মাধ্যমে আজও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এই নাট্য মাধ্যমগুলো যেন হারিয়ে না যায়। জাবি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের একঝাঁক তরুন শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গড়া হয়েছে সুন্দরবন থিয়েটারের ঢাকা ইউনিট। অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবন থিয়েটার মোংলা তথা সমগ্র বাংলাদেশে সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী উপাদানগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018