মোংলা বন্দরের জেটিতে চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ আমদানিকারকরা - বিডি বুলেটিন মোংলা বন্দরের জেটিতে চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ আমদানিকারকরা - বিডি বুলেটিন

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

মোংলা বন্দরের জেটিতে চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ আমদানিকারকরা

মোংলা বন্দরের জেটিতে চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ আমদানিকারকরা

মোংলা প্রতিনিধিঃ
মোংলা বন্দর জেটির অভ্যন্তর থেকে আমদানী করা মালামাল প্রতিনিয়ত পাচার করছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। এর মধ্যে ওই চক্রের চার সরদারের বক্স তল্লাশি করে বেশ কিছু মূল্যবান মালামাল জব্দ করেছে বন্দরের নিরাপত্তা শাখা। তবে অদৃশ্য কারনে এখনো তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। জেটি থেকে মালামাল পাচার ও নিজেদের আত্মরক্ষায় ওই চক্রের সদস্যরা শ্রমিক সরদার, সুইপারসহ নানা পেশার আইডি কার্ড গ্রহন করে বন্দরের ট্রাফিক শাখা থেকে। পূর্বেও বিভিন্ন সময় কোটি কোটি টাকার মালামাল পাচার হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এভাবে চলতে থাকলে মোংলা বন্দর দিয়ে পন্য আমদানী কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের ফলে মোংলা বন্দরের জেটিতে কসমেটিকস, চিকিৎসা সামগ্রী, প্রসাধনীসহ কন্টেইনার বাহী নানা পণ্যের আমদানি বেড়েছে। আর ওইসব পন্য খালাসের জন্য বন্দরের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জেটি সরদারের কার্ড নেয়ার বিধান রয়েছে শ্রমিক পরিচালনার জন্য। আর এ সুযোগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র বন্দরের ট্রাফিক শাখার উচ্চমান সহকারী এক কর্মচারীকে ম্যানেজ করে ওই কার্ড সংগ্রহ করেন। এর পর শুরু করে জেটি থেকে আমদানী পণ্য কৌশলে বাহির করে পাচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জনের।

মোংলা বন্দরের উর্দ্ধতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোঃ আইয়ুব আলী জানান, দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগের পর ২৮ অক্টোবর জেটিতে রাখা শ্রমিক সরদার সাগর শেখ, নুরুল আমিন, মোঃ সেলিম ও নজরুলের চারটি বক্স তল্লাশি করে মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ। ওই সময় জব্দ করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহত ৬টি পাটি,  সাইকেলের লুকিং গ্লাস বক্স, ১৫ আইটেমের ইজি বাইকের মালামাল, চল্লিশ পিস তালা, ৪৩ ডজন বলপেন, লিপিষ্টিক ছয় বক্স, সাইকেলের ষ্ট্যান্ড, গাড়ীর হর্ণ, ষ্টীলের টানা, কব্জা, জুতা, শীতের জ্যাকেটসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। তবে চুরির ঘটনায় জড়িত সরদারদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে তিনি বন্দরের  প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোঃ আবদুল আলীম জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে থাকায় এ বিষয়ে পুরোপুরি তদন্ত শেষ করতে পারেন নাই। তবে দ্রুত অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বন্দরের একটি সুত্রে জানা যায়, এর আগে সংরক্ষিত জেটি থেকে দেড় কোটি টাকা মুল্যের বিলাসবহুল গাড়ী, কন্টেইনার থেকে কয়েক কোটি টাকা মুল্যের গামেন্টস পণ্য চুরির ঘটনা ঘটে। জেটি থেকে মালামাল চুরিসহ এমন সব ঘটনায় সহযোগীতার অভিযোগে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে বন্দরের এক সুইপার ও এক শ্রমিক কে। এর আগে চলতি বছরের ২০ আগষ্ট জেটিতে আমদানী করা মোবাইল যন্ত্রাংশ ও প্রসাধনী সামগ্রী চুরির সাথে জড়িত থাকায় শ্রমিক মোঃ রুবেল, নাসির তালুকদার ও মোঃ জুয়েল কে হাতেনাতে আটক করে মোংলা থানায় হস্তান্তর করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে বিদেশ থেকে আমদানী করা কিছু পণ্য শ্রমিকরা প্রায় সময় বিক্রি করছে পুরাতন মোংলা বন্দরের সিঙ্গাপুর  মার্কেটসহ অন্যান্য স্থানে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক শ্রমিক জানান, জেটিতে কর্মরত শ্রমিক সরদাররা কন্টেইনারের পেটি ভেঙ্গে ছুরি করে বিভিন্ন আমদানি করা মালামাল। ওইসব ছুরির মালামাল বড় চালান গুলো খুলনায় বিক্রি করে থাকেন। তাদের ব্যবহারের জন্য এক দুইটি দিলে তারা সেটি মোংলায় বিক্রি করে দেন। ওই শ্রমিকের দাবি ছুরির ঘটনার সাথে বন্দরের নিরাপত্তা শাখার কয়েকজন ও আমদানীকৃত পণ্যের সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট’র কতিপয় কর্মকর্তারা জড়িত থাকেন। তাদের গাড়িতে ওইসব মালামাল বের করা হয়। ওই শ্রমিকের ভাস্যমতে, লেবার সরদারের কাজ করে জেটির কয়েক জন বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। গাড়ীতে কিভাবে মালামাল জেঠি থেকে বের হয় ,এমন প্রশ্নের জবাবে বন্দরের উর্দ্ধেতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আয়ুব আলী জানান, তথ্য থাকলে তারা গাড়ি তল্লাশি করে থাকেন। কিছু দিন পূর্বে কাস্টমস কর্মকর্তার গাড়ী তল্লাশি করে বেশ কিছু বিদেশি জুতা জব্দ করেছেন তারা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018