যৌতুকের কষাঘাতে আহত গৃহবধু - বিডি বুলেটিন যৌতুকের কষাঘাতে আহত গৃহবধু - বিডি বুলেটিন

বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২০, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

যৌতুকের কষাঘাতে আহত গৃহবধু

যৌতুকের কষাঘাতে আহত গৃহবধু

Print Friendly, PDF & Email

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
বিদেশে যাওয়ার তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি তুলে সদ্য বিবাহিত গৃহবধূকে ঘরে আটকে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে আহত গৃহবধূকে হাসপাতালে না নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে শালিসীর কথা বলে তার পরিবারের লোকজনকে খবর দেয় গৃহবধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে আহত গৃহবধূকে ইউনিয়নর পরিষদ থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্বজনরা। মিতু উপজেলার সবুজনগর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে।

নির্যাতিত গৃহবধূ মিতুর মা পাখি বেগম অভিযোগ করেন, গত ছয়মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে পার্শ্ববর্তী বরগুনা উপজেলার কড়ইতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসি মো. জাহাঙ্গীর আকনের ছেলে মো. জাহিদ আকনের সাথে মিতুর আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বামী জাহিদ ঢাকায় চাকুরি করেন এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ বিয়ে করে। বিয়ের পর বেকার জাহিদ নানা ভাবে স্ত্রীকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। বিয়ের সময় বরপক্ষের সকল দাবি দাওয়া পূরণ করা হয়। জাহিদের পিতা গত ১৫ দিন আগে বাড়িতে আসলে আমাদের (মিতুর পরিবারকে) দাওয়াত দিয়ে তাদের বাড়িতে নেন। এরপর দুই পরিবারের বৈঠকে মিতুর স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর কথা ওঠে। সেখানে বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন তারা। আমরা এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে আসি। এরপর থেকেই মিতুর স্বামী ও পরিরারের লোকজন মিতুর ওপর নির্দয় আচরণ শুরু করে। সাত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকী দেয়।

বৃহস্পতিবার জাহিদ মিতুকে ঘরে আটকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্দয়ভাবে পেটায়। এ নির্যাতনে তার শ্বাশড়ি কনক বেগম ও ননদ শেফালি আক্তারও অংশ নেয়। গুরুতর আহত মিতুকে হাসপাতালে ভর্তি না করে তারা আমাদেরকে শালিসীর কথা বলে বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়ন পরিষদে আসতে খবর দেন। আমার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মিতুকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পাই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিতুকে আমাদেও কাছে তুলে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে মঠবাড়িয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের সহায়তায় মিতুকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোনিয়া আক্তার বলেন, গৃহবধূর শরীরের ভিন্নি স্থানে পিটুনীর দাগ রয়েছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে । সে শারিরীক ও মানসিক অসুস্থ। সুস্থ হতে কয়েকদিন সময় লাগবে।
আহত মিতুর ভাই মনির হোসেন জানান, বোনের এমন নির্যাতনে আমরা ভিষণ কষ্টে আছি । এ ঘটনায় বরগুনার বামনা থানায় মামলা দায়েররের প্রস্তুতি চলছে।

 163 total views,  2 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018