সবুজ আন্দোলন - বিডি বুলেটিন সবুজ আন্দোলন - বিডি বুলেটিন

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১০ অপরাহ্ন

সবুজ আন্দোলন

কাজী আফরোজা:
এখনো পর্যন্ত মানব বসতির একমাত্র উপযুক্ত স্থান হল পৃথিবী । পৃথিবীতে আলো, বাতাস, ছায়ায় আমরা সবাই বড় হচ্ছি, লালিত হচ্ছি। তাকে রক্ষা করার জন্য আমাদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্রমাগত পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। ২০১৫ সাল হতে বর্তমান সাল পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী গরম বছর। পৃথিবীর দুই মেরু বেশী ঠাণ্ডা ও বরফাচ্ছাদিত। এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি হলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে গত শতাব্দী থেকে বর্তমান কালজুড়ে কয়লা, তেল পুড়িয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনের কারনে সৃষ্ট কার্বন ও অন্যান্য মারত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস পৃথিবীর ওজন স্তর ক্ষতিগ্রস্থ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঝড়,বন্যা অনাবৃষ্টি,অতিবৃষ্টি শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি করে চলেছে। পৃথিবীর ফুসফুস বলে খ্যাত অ্যামাজন জঙ্গল উন্নয়নের নামে কর্তন করে ফেলার কারনে ইকো সিস্টেম মারাত্মকভাবে বিপন্ন। তাছাড়া প্ল্যাস্টিক, পলিথিন, রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কারনে চাষযোগ্য জমি, সাগর, নদী মারত্মক দূষণে লক্ষ লক্ষ প্রজাতি নিশ্চিহ্নের মুখোমুখি। ২০১৮ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে রয়েছে চমকে উঠার মত তথ্য, পৃথিবীর ৮০ লক্ষ্য প্রজাতির মধ্যে ১০ লক্ষ্য প্রজাতি বিলুপ্তির খুব কাছাকাছি। বন্য পশু বিলুপ্ত হয়ে গেছে ৮২ শতাংশ। প্রকৃতির ইকো সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে ৪৭ শতাংশ, উদ্ভিদ ও পশুপাখি ধ্বংসর মুখে আছে ২৫ শতাংশ, চাষযোগ্য জমি চাষের অযোগ্য হয়েছে ২৩ শতাংশ, এর জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানুষই দায়ী। সবুজ পৃথিবীর সুন্দর পরিবেশ রক্ষার জন্য পৃথিবীর সব জায়গায় সবুজ আন্দোলন চলছে। বাংলাদেশের আকাশ, বাতাস, মাটি, পানি, নদী, সমুদ্র, উপকুল, শহর, বাজার, গ্রাম, প্রধান খাদ্যসমূ্‌হ পানি ও ঔষধ সহ অন্যান্য উপকরন মারত্মক দূষণের স্বীকার। সুন্দরবন বাংলাদেশের ফুসফুস। আমাদের দক্ষিণের ঝড় থেকে রক্ষাকারী অকৃত্রিম বন্ধু। সুন্দরবন শেষ করার আয়োজন চলছেই। আমাদের বেশীরভাগ জঙ্গল কেটে সাফ করে ফেলা হয়েছে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো সহ আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোর কারখানা থেকে সৃষ্ট বায়ু ও পানি দূষণ। আমরা পৃথিবীর প্রধান প্রাকৃতিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ক্রমবর্ধমান হারে আমাদের নিজ দেশিয় সৃষ্ট দূষণ যেন মরার উপর খড়ার ঘা। তাছাড়া অজ্ঞতার কারনে আমাদের দেশের কৃষকগন অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক দিয়ে ফসল উৎপাদন করছে বলেই আমরা খাদ্য ও ভূমি দূষণের স্বীকার হচ্ছি। অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্যে রাসায়নিক পদার্থ মেশানো বন্ধ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জন্মগতভাবে অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত হবে। আমদানিকৃত খাদ্য হতে হবে দূষণ মুক্ত। সবুজ শ্যামলীময় ভোরে তুলতে হবে দেশ। সবুজ বিনষ্টকারী ক্ষতি হতে দেশ কে মুক্ত করতে হবে। সরকারী বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। তাহলে মানুষ সৃষ্ট দূষণমুক্ত দেশ, অর্থনীতি, তথা সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018