সুন্দরবন সুরক্ষায় পর্যাপ্ত জনবল, নৌযান নেই বনবিভাগের - বিডি বুলেটিন সুন্দরবন সুরক্ষায় পর্যাপ্ত জনবল, নৌযান নেই বনবিভাগের - বিডি বুলেটিন

বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

সুন্দরবন সুরক্ষায় পর্যাপ্ত জনবল, নৌযান নেই বনবিভাগের

সুন্দরবন সুরক্ষায় পর্যাপ্ত জনবল, নৌযান নেই বনবিভাগের

সুন্দরবন সুরক্ষায় পর্যাপ্ত জনবল, নৌযান নেই বনবিভাগের

Print Friendly, PDF & Email

মনির হোসেন,মোংলাঃ

অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বিশাল আয়তনের সুন্দরবন চির সবুজের ছায়া সুনিবিড় বন হিসেবে বিশ্ব দরবারে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বিশাল আয়তনের এ বনের নিরাপত্তায় নেই পর্যাপ্ত জনবল। আর পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সুন্দরবনের নিরাপত্তা কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে বন কর্মকর্তারা বলছেন সুন্দরবন সুরক্ষায় বনবিভাগের পাশাপাশি প্রতিটি রেঞ্জে পুলিশের আলাদা আলাদা টিম কাজ করছে। সুন্দরবনে দস্যুতা দমন ও মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় বনবিভাগ, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও র‍্যাবের নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রতি ৭ বর্গ কিলোমিটার বন পাহারায় ১ জন বনরক্ষী। নেই পর্যাপ্ত জনবল। বিশাল এই বনের জনবল সংকট নিরসনের দাবী বনরক্ষীদের। দেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেসে গড়ে উঠে বৃহত্তর প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। এ বনের প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরী। এই সুন্দরী গাছের জন্য এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন। সুন্দরী গাছের জন্য বিশ্ববাসীর কাছে এই বন বিখ্যাত। সেই ‘সুন্দরী’ গাছ ও বন সংরক্ষনের জন্য যে সংখ্যক বন প্রহরী রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।

সুন্দরবনের প্রতি ৭ বর্গ কিলোমিটার পাহারা দিতে হয় একজন বন প্রহরীকে। আর এই বন পাহারা দেয়া একজন বন প্রহরীর পক্ষে মোটেও তা সম্ভব নয়। সুন্দরবনে বাংলাদেশ অংশের মোট আয়তন ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার। এরমধ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের আয়তন ২৪৩০ বর্গ কিলোমিটার। বাগেরহাট জেলার তিন উপজেলা শরনখোলা, মোড়েলগঞ্জ ও মোংলা সংলগ্ন পূর্ব সুন্দরবনকে শরনখোলা ও চাদঁপাই দুটি রেঞ্জে বিভক্ত করা হয়েছে। এই রেঞ্জের অধীনে ৮টি ষ্টেশন ও ৩০টি ক্যাম্প ও ফাড়ি রয়েছে। ২৪৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বন পাহারায় রয়েছে মাত্র ৩৫০ জন বনরক্ষী। যেখানে পদ রয়েছে ৫১৬ টি।শুধু জনবল সংকট নয়, রয়েছে অত্যাধুনিক জলযান সংকট। বর্তমানে যা আছে তা চলাচলের অযোগ্য হলেও তাই দিয়েই কাজ সারতে হচ্ছে তাদের।

বনরক্ষীদের দাবী হরিণ শিকারীদের খোঁজ পেলে আমরা যেতে যেতে তারা পালিয়ে যায় যার অন্যতম কারণ হচ্ছে জলযান। জলযান উন্নতমানের ও দ্রুত গতির হলে হরিণ শিকারীদের ধরতে সুবিধা হবে।পূর্ব সুন্দরবন করমজলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবীর বলেন, সুন্দরবন অনেক বড় এরিয়া আর প্রতি ৭ বর্গকিলোমিটারে একজন বনরক্ষী পাহারা দেওয়াটা অনেক সমস্যার। সুন্দরবনে জনবল সংকট থাকায় রক্ষীদের পাহারা দিতে সমস্যা হয়। জনবল সংকট নিরসন হলে বনের সুরক্ষা বাড়বে। আর সেই সাথে আমাদের জলযানগুলো চলাচলের অনুপযোগী। উন্নতমানের জলযান পেলে আমরা অনেকটাই উপকৃত হব। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, একজন রক্ষীর পক্ষে ৭ বর্গকিলোমিটার বন পাহারা দেওয়া সম্ভব না। আমরা জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি ইতিমধ্যেই। আশা করি অতিশিঘ্রই জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আর সুন্দরবনে যে জলযান রয়েছে এগুলো পর্যাপ্ত নয়। এই জলযান গুলো অনেক পুরোনো হয়ে গেছে।

 210 total views,  1 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018