১৯ মার্চ ১৯৭১ “বাঙ্গালী সৈন্যদের প্রথম বিদ্রোহ”: ধনঞ্জয় দে - বিডি বুলেটিন ১৯ মার্চ ১৯৭১ “বাঙ্গালী সৈন্যদের প্রথম বিদ্রোহ”: ধনঞ্জয় দে - বিডি বুলেটিন

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০১:৫১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
দেশে করোনায় আরও দুজনের মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়ে ৭০ করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু করোনায় মৃতদের গোসল ও দাফনে স্বেচ্ছায় যে ১১ ব্যক্তি আগ্রহী! চীনের আবিষ্কৃত করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণকারীরা সুস্থ আছেন আমেরিকায় করোনায় মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়াল ঝালকাঠিতে স্বপ্নপূরণ সমাজকল্যাণ সংস্থার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ,পাঁচ টাকায় ৮ পণ্য মোংলায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সুন্দরবনের জলদস্যুদের পাশে দাঁড়ালো র‍্যাব-৮ জলঢাকায় ৫৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ডোমারের পাঙ্গায় ব্যবসায়ীর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা কর্মহীন মানুষদের জন্য সহায়তা চেয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের গণবিজ্ঞপ্তি
১৯ মার্চ ১৯৭১ “বাঙ্গালী সৈন্যদের প্রথম বিদ্রোহ”: ধনঞ্জয় দে

১৯ মার্চ ১৯৭১ “বাঙ্গালী সৈন্যদের প্রথম বিদ্রোহ”: ধনঞ্জয় দে

এইদিন সেনাবাহিনীর বাঙ্গালী সৈন্যরা স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রথম বিদ্রোহ করে । ঢাকার কাছে জয়দেবপুর সেনা ছাউনিতে পাকিস্তানী কমান্ডিং অফিসাররা বাঙ্গালী সৈন্যদের অস্ত্র জমা দিতে বলে । কিন্তু বাঙ্গালী সৈন্যরা তাদের নিরাপত্তাজনিত কারনে এই নির্দেশ অমান্য করে । ফলে এক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় ।এতে বেশ কিছু বাঙ্গালী সৈন্য হতাহত হয় । এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে আসে । তারা রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে যাতে বিদ্রোহী সৈন্যরা নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে । পাকিস্তানী ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব আরবাব জয়দেবপুর সেনা ছাউনী পরিদর্শন শেষে ফেরার সময় এই ব্যারিকেডের মধ্যে পড়েন । তিনি নির্দেশ দেন গুলিবর্ষন করে ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে । কিন্তু উপস্থিত বাঙ্গালী সৈন্যরা গুলি করতে চায়নি ।তারা মাটিতে এবং শূন্যে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে । ফলে হতাহত হয় অনেক কম । কিছু বাঙ্গালী সৈন্য এই সুযোগে অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায় ।এটি ছিল পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে একটি নীরব বিদ্রোহ ।কিন্তু পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পরবর্তীতে আবার জনতার মিছিলের উপর চড়াও হয় ।তাদের গুলিবর্ষনে অন্তত ২০ জন নিহত হয় । পরে ওই স্থানে সামরিক কতৃপক্ষ কারফিউ জারী করে । এই খবর প্রচার হবার সাথে সাথে ঢাকা সহ সারা দেশের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ।
এদিন মুজিব ইয়াহিয়ার তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । প্রায় ৯০ মিনিট বৈঠকের পর বঙ্গবন্ধু বেরিয়ে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন “আলোচনার ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় ।আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে ।আমরা আর চার দফা দাবী থেকে পিছু হটতে পারবো না । এটা তাদের বুঝে নিতে হবে”।
এইদিন বঙ্গবন্ধুর তিনজন উপদেষ্টা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ ও ডঃ কামাল হোসেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কিছু উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন ।
এদিকে জয়দেবপুরের সংঘর্ষের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে বলেন “সামরিক কর্তৃপক্ষ যদি এখনো মনে করে যে জনগনের এই আন্দোলনকে কামান বন্দুক দিয়ে দমন করবে তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে”। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন “সরকার বলছে সামরিক বাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে ।যদি ফিরেই যায় তাহলে তারা জয়দেবপুরে যায় কিভাবে” ? তিনি সরেজমিনে ঘটনা তদন্ত করার জন্য তার দলের লোক পাঠিয়েছেন বলেন জানান । সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানী নেতাদের সাথে আলোচনা করার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন “কেউ যদি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে চায় সেজন্য আমি সবসময় প্রস্তুত আছি” ।

 111 total views,  6 views today

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018