২০৩৫ সাল নাগাদ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে - বিডি বুলেটিন ২০৩৫ সাল নাগাদ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে - বিডি বুলেটিন

সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

২০৩৫ সাল নাগাদ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে

২০৩৫ সাল নাগাদ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে

 ডেক্স রির্পোট. প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক বাজার উত্তরোত্তর প্রসারিত হচ্ছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার দখলে নিতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের হিস্যা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। এ চেষ্টা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশটি প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক বাজারে অর্ধেকেরও বেশি নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হবে। বাজারবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসি অ্যান্ড কোম্পানি তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর অয়েলপ্রাইস ও অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডটকম।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘গ্লোবাল গ্যাস অ্যান্ড এলএনজি আউটলুক টু-২০৩৫’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে শেল (পাথরের ভাঁজে থাকা জ্বালানি) গ্যাস উৎপাদন দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। যার ওপর ভর করে দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের অর্ধেকেরও বেশি এককভাবে সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। এ সময়ের মধ্যে দেশটির সরবরাহ দাঁড়াবে ৩৮ হাজার কোটি কিউবিক মিটার। যেখানে বৈশ্বিক মোট সরবরাহ দাঁড়াতে পারে ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি কিউবিক মিটার। যুক্তরাষ্ট্রের পরই একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে রাশিয়া। দেশটির সরবরাহ এ সময় দাঁড়াতে পারে ১১ হাজার কোটি কিউবিক মিটার। একই সময়ের মধ্যে রাশিয়ার সমপরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ করবে আফ্রিকার দেশগুলো। তবে এ সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত নিম্নমুখী হতে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ম্যাককিনসি অ্যান্ড কোম্পানি।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিক গ্যাসের বাজারে নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি ধারা বজায় থাকবে। তবে এ সময়ে দ্রুত প্রসারিত হবে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার। এ সময়ের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি পণ্যটির বাজারে বড় প্রবৃদ্ধি দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

খাতসংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলছেন, গত বছর প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে এ সময়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে এশিয়ার বাজারে দেশ দুটির গ্যাসের বাণিজ্যও প্রসারিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১২ মাসে বৈশ্বিক গ্যাসের বাজার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রসারিত হয়েছে। আর ২০১৮ সালে এলএনজির বাজার প্রসারিত হয়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক এলএনজির বাজারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি থাকবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এমনকি এলএনজি বাজারে অব্যাহত এ প্রবৃদ্ধি মোকাবেলায় এ খাতে ৪০ হাজার ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সম্মিলিতভাবে গ্যাস ও এলএনজি আমদানিতে জাপানকে টপকে শীর্ষ অবস্থানে চলে আসে চীন। কেবল এলএনজি আমদানিকারক হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়াকে হটিয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ জায়গা নিয়েছে দেশটি। এছাড়া ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এলএনজি চাহিদার ৯৫ শতাংশই থাকবে চীন, আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দখলে। সে কারণে এ সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক গ্যাসের মোট চাহিদা দশমিক ৯ শতাংশ বাড়লেও এশিয়ায় বাড়বে ২ দশমিক ১ শতাংশ। বিশেষ করে এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ ও গ্যাসনির্ভর শিল্পে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়বে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ ইউরোপের বাজারগুলোয় গ্যাস আমদানি নির্ভরতা আরো বাড়বে। পাশাপাশি এশিয়া দূরবর্তী সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা, বৈশ্বিক গ্যাসের বাজার ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রভূতি কারণে এ সময়ে এলএনজির চাহিদা গ্যাসের সম্মিলিত চাহিদার চেয়ে দ্রুত প্রসারিত হবে।

এলএনজি রফতানি ও আমদানিতে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্যর পূর্বাভাস মিলেছে আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রতিবেদনেও। চলতি বছরের শুরুতে আইইএ তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কাতারকে ছাড়িয়ে শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারক দেশ হিসেবে জায়গা করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়ে জাপানকে ছাড়িয়ে শীর্ষ আমদানিকারক দেশে পরিণত হবে চীন।

ম্যাককিনসি অ্যান্ড কোম্পানি পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, নতুন পাইপলাইন নির্মাণের ফলে ২০২৫ সালের মধ্যে সীমান্ত দিয়ে গ্যাস সরবরাহ ২০ হাজার কোটি কিউবিক মিটার ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে পাইপলাইনের সাহায্যে গ্যাস রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্রঃ বনিক বার্তা

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018