শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

কালো তালিকাভুক্ত গাড়ি রাস্তায় নামলেই সংকেত যাবে থানায়

কালো তালিকাভুক্ত গাড়ি রাস্তায় নামলেই সংকেত যাবে থানায়

অনলাইন ডেস্ক : ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্পের আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো ফেস রিকগনিশন ও যানবাহনের নাম্বার প্লেট চিহ্নিতকরণ আইপি ক্যামেরা বসেছে সিলেট নগরীতে। সিলেটকে স্মার্ট শহরে রূপান্তরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এ উদ্যোগ নিয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকালে এ দুটি প্রকল্পের উদ্বোধনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশের প্রথম ডিজিটাল ও স্মার্ট সিটি ও বিভাগ হচ্ছে সিলেট। এ দুই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সিলেট নগরী আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ হয়ে উঠবে। অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি অথবা কালো তালিকাভুক্ত যানবাহন নগরীর সড়ক দিয়ে চলাচল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। এতে অপরাধীকে শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

শনিবার বিকালে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং প্রধান তথ্য কমিশনার মর্তুজা আহমেদ। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বাস্তবায়নাধীন ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত পাবলিক ওয়াইফাই জোন ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সংবলিত আইপি ক্যামেরা বেজড সার্ভিলেন্স সিস্টেম এবং তথ্য কমিশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত তথ্য অধিকার (আরটিআই) অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেমের পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পে সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১১০টি অত্যাধুনিক আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সংবলিত আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। জিন্দাবাজার পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, লামাবাজার পয়েন্ট, আম্বরখানা পয়েন্ট, মাজারগেট, জেলখানা পয়েন্ট, সুবিদবাজার পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহ এলাকাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এসব আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব আইপি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। এ সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবে সিলেট মহানগর পুলিশ। এ ক্ষেত্রে অপরাধে জড়িত কোনো অপরাধী অথবা কালো তালিকাভুক্ত যানবাহনের নাম্বার যদি আইপি ক্যামেরার আওতাভুক্ত কোনো এলাকায় ধরা পড়ে, তবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অটোমেটিক সিগন্যাল বেজে উঠবে, যা অপরাধীকে শনাক্ত করতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে (এসএমপি) দ্রুত সহায়তা করবে। তা ছাড়া পুলিশ চাইলে যে কোনো অপরাধীর ছবি অথবা গাড়ির নম্বর দিয়ে আইপি ক্যামেরার সার্ভারে অনুসন্ধান (সার্চ) করে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করতে পারবে। এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করবে।

এ ছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় সিলেট নগরের ৬২ স্থানে ১২৬ এক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হবে। এখান থেকে সিলেটবাসী বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে এবং বিভিন্ন প্রকার সেবা নিতে পারবে। এই ট্র্যাকিং সিস্টেমের সব ধরনের সলিউশন ও ডিভাইস প্রদান করছে হুয়াওয়ে। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুর রহমান খান ও উপপ্রকল্প পরিচালক মধুসূদন চন্দ, বিসিসির সফটওয়্যার কোয়ালিটি টেস্টিং ও সার্টিফিকেশনের পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া এবং প্রধান সলিউশন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশন এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018