শনিবার, ২০ Jul ২০১৯, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বিভিন্ন পণ্য ও সেবার খরচ বেড়েছে যে কারণে

বিভিন্ন পণ্য ও সেবার খরচ বেড়েছে যে কারণে

বাজেটে মোবাইল ফোনের শুল্ক ২২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের পরপর বর্ধিত হারে টাকা কেটে নেওয়া নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে গ্রাহকদের মধ্যে। তাদের প্রশ্ন বাজেট পাসের আগে কেন বেশি হারে টাকা কাটবে। তবে শুল্ক কিন্তু আইন বলছে, বিষয়টি বেআইনি নয়। শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক)-সংক্রান্ত সব পরিবর্তনই যেদিন বাজেট ঘোষণা হয়, সেদিনই সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হয়। তাই গত ১৩ জুন বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী শুল্ক, মূসক, সম্পূরক শুল্ক-সংক্রান্ত যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন, তা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়ে গেছে।

এটি আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক), নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কসহ সব ধরনের করারোপের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক বা মূসক হার প্রযোজ্য। প্রভিশনাল কালেকশন অব ট্যাক্সেস অ্যাক্ট, ১৯৩১ সালের ৩ নম্বর ধারায় এই কথাটি বলা আছে।

প্রতিবছর অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় শুল্ক ও মূসক-সংক্রান্ত যেসব প্রস্তাব করেন, তা এ আইনের মাধ্যমেই তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়। এটিই নিয়ম। অর্থ বিলে প্রভিশনাল কালেকশন অব ট্যাক্সেস অ্যাক্টের কথা উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তাবসমূহ কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়; যা অর্থ বিলের শেষাংশে উল্লেখ থাকে।

তবে বাজেটের আয়কর-সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ জুলাই মাস থেকে কার্যকর করা হয়। কেননা, আয়কর বর্ষ শুরু হয় জুলাই মাসে, আর শেষ হয় পরের বছর জুন মাসে।

শুল্ক-সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর না করা হলে কোনো পণ্যের আমদানি শুল্ক কিংবা সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো কিংবা কমানো হলে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। মূসকের পরিবর্তনগুলোও একই কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়।

তবে যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়, সেগুলো কার্যকর হবে বাজেট অনুমোদনের পর। এ কারণে শুল্ক ছাড় দেওয়ার পরও কোনো পণ্যের দাম কমে না।
বাজেটের পর মোবাইল গ্রাহকদের মতো ধূমপায়ীদেরকেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। বেনসন প্রতি শলাকা বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। যা বৃহস্পতিবার বিকেলেও ছিল প্রতি শলাকা ১২ টাকা। মার্লবোরো প্রতি শলাকায় ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা।

গোল্ডলিফ প্রতি শলাকায় ১ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা। প্রতি শলাকায় ১ টাকা করে বেড়ে স্টার সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা, নেভি ৭ টাকা, পাইলট সিগারেট ৫ টাকা, হলিউড সিগারেট ৫ টাকা, ডারবি সিগারেট ৫ টাকা, শেখ সিগারেট ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিগারেটের দাম বাড়ার বিষয়ে বিক্রেতারা বলছে, বেশি দামে কিনছে তাই বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে তাদের।

প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে চিনির বাজারেও। চিনির পাশাপাশি ভোজ্যতেলের দামও মণপ্রতি ৯০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে বেড়েছে গুঁড়ো দুধের দামও।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পাইকারিতে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭১০ টাকায়। যেটা গতকাল রবিবার হয় মণপ্রতি ১ হাজার ৮১০ টাকায়।

দুদিন আগেও প্রতি মণ পাম অয়েলের দাম ছিল ১ হাজার ৮৯০ টাকা। এখন মণপ্রতি পাম অয়েলের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৮০ টাকা। একইভাবে সয়াবিন তেলের দাম মণপ্রতি ৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। সুপার পাম অয়েলের দাম ৬০-৭০ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা।

বাজেটে ভোজ্য তেল ও চিনির ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন থেকে যেই এই পণ্য দুটি দেশে আনবেন, তাকেই বাড়তি অর্থ দিতে হবে। তবে এই পণ্য দুটির যে চালান এখন বাজারে, সেগুলো আগেই আমদানি হয়েছে। ফলে দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ নেই। একই অবস্থা বিদেশি গুঁড়া দুধের ক্ষেত্রে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজেট ঘোষণার পর থেকেই চিনি ও ভোজ্যতেলের ডিও কেনার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। দাম আরো বেড়ে যাবে, এমন গুজবে বাজারে পণ্য দুটির চাহিদা বেড়ে গেছে। তাই যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে মজুদ রয়েছে, তারা বেশি দামে চিনি ও ভোজ্যতেলের ডিও বিক্রি করছেন।

তবে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও আমদানি করা মোবাইল ফোন আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে। এ গুলশানের ডিজিটন মোবাইল শো-রুমের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সাকিবুল হাসান বলেন, ‘মোবাইলফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমরা দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনও কোন ধরনের নির্দেশ পাইনি। এখনও আগের দামেই মোবাইল সেট বিক্রি করা হচ্ছে।’

অবশ্য দেশে যারা মোবাইল ফোন উৎপাদন করে, তাদের পণ্যের দাম বাড়ার কারণ নেই। কারণ শুল্ক প্রস্তাবে তাদের খরচ বাড়বে না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018