শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:৩০ অপরাহ্ন

নিম্নচাপের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টি, দুর্ভোগ

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের উপকূলে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে রাজধানীসহ সারাদেশেই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার যার প্রমাণ পেয়েছেন নগরবাসী। সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। কখনও তা মুষলধারায় রূপ নেয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। ঈদের আগে শেষ কর্ম দিবসে নগরবাসীর ভোগান্তিও ছিল অসহনীয়। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি, সেখানে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় রাজপথ। দুর্ভোগে ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, মৌসুমি নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হওয়া পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে বর্ষা ঋতুতে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকে, অন্যদিকে এই নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা বাড়ে। এ কারণে সাগরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারতের ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে দেশটির ঝাড়খণ্ডের আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত আছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বলা হয়েছে- ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়া ও সেই সঙ্গে বজ্রসহ ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর অনেক এলাকাতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক সড়কে পানি জমে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। মেট্রোরেল প্রকল্প এলাকা কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টাখানেক লাগে। সেই সুযোগে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। রাইড শেয়ার কোম্পানি উবারও বৃষ্টির সময়ে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। শাহবাগ থেকে মিরপুর হয়ে পল্লবী পর্যন্ত সড়কে বৃষ্টির পানিতে নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়। মেট্রোরেলের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পানি নিস্কাশনের মাধ্যমগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে পানিতে রাস্তা তলিয়ে যায়।

এদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ওই তিনটি এলাকা ছাড়াও হাতিরপুল, মগবাজার, মালিবাগ-মৌচাক, নয়াপল্টন, শেওড়াপাড়া, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে। রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া থেকে মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত প্রধান সড়কও পানিতে সয়লাব। সচিবালয়ের সামনের রাস্তায়ও পানি জমে গেছে। এছাড়া নিচু এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অনেক এলাকার পানির সঙ্গে স্যুয়ারেজের লাইনের বর্জ্য যুক্ত হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মুষলধারায় বৃষ্টির পরপরই রাজধানীর জিগাতলা, ট্যানারি মোড়, শনিরআখড়া, রায়েরবাগ, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, মানিক মিয়া এভিনিউ, কাকরাইল, বাড্ডা, কুড়িল, ভাটারা, আজিমপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, বংশাল, লালবাগ, কমলাপুর, বাসাবো, মুগদাপাড়া, জুরাইনসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার দৃশ্য অহরহই চোখে পড়ে। পানির কারণে সিএনজিচালিত অনেক অটোরিকশা, প্রাইভেটকার রাস্তার মাঝে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওইসব সড়কে তীব্র যানজট লেগে যায়। অনেক স্থানে ম্যানহোলে চাকা ঢুকে রিকশা উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কাঁচাবাজারগুলোয় উৎকট পরিবেশ তৈরি হয়।

ঢাকা ওয়াসা জানায়, প্রতি ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার কথা নয়। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত বর্ষণ হলেই জলজট তৈরি হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার কিছু এলাকায় জলজট সৃষ্টি হলেও পরক্ষণেই তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেলের লোকজন সকাল থেকেই মাঠে ছিল।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018