শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

দায়িত্বরত একজন এস.আই’র ভাষায় ‘পুলিশের ঈদ’

দায়িত্বরত একজন এস.আই’র ভাষায় ‘পুলিশের ঈদ’

অলিউল্লাহ খান: বাবা নেই, বাড়িতে বৃদ্ধ মা। ইচ্ছে ছিল তার সঙ্গেই ঈদের ছুটিটা কাটাবো। কথাগুলো বলতে বলতে চোখ ভিজে এসেছিল কাফরুল থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম সাইফুলের। সকাল ৬টা থেকে তিনি রাজধানীবাসীর নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ডিউটির ফাঁকে ঈদুল আযহা জামাত আদায় করেছেন কাফরুলের একটি ঈদগাহে ময়দানে ।পাঞ্জাবি পরার সুযোগটাও হয়নি। ইউনিফর্ম পরেই কোনো রকম নামাজ আদায় করেছেন। টহল গাড়ির ভিতরে হেলান দিয়ে মন খারাপ করে বসে ছিলেন।(এসআই) মোঃ রফিকুল ইসলাম সাইফুলের একমাএ পুএ সন্তান সাবিত বিন সাইফ যার বয়স মাত্র ১ বছর ৩ মাস ।

একটি চেয়ারে বসা তার সামাজিক যোগাযোগ ফেইসবুক আইডিতে লিখেন, ডিউটিতে থেকেই সকলকে পবিত্র ঈদুল আযহা শুভেচ্ছা।

মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই আক্ষেপ শুধু আমার না। রাজধানীবাসীর ঈদ আনন্দ নির্বিঘ্ন করতে আমার মতো আজ বার হাজার পুলিশ ডিউটি করছে। মনে এতো কষ্ট থাকার পরেও রাজধানীবাসীকে নিরাপদ ঈদুল আযহা আনন্দ উপহার দিতে পেরেই আমরা অনেক খুশি।

বরিশাল বাকেরগঞ্জের খয়রাবাদ গ্রামে এসআই সাইফুলের বাড়ি । বাবার নাম মৃত মোঃ একে শিকদার। ২০১০ সালে তিনি মারা গেছেন। এখন বাড়িতে আছে বৃদ্ধ মা, একা। তিন ভাই-বোনের পরিবারে সাইফুলই সবার ছোটো। আর এ কারণেই হয়তো তার প্রতি মনোয়ারা বেগমের একটু বেশিই টান। সারা বছর মা পথ চেয়ে থাকে কবে তার ছোটছেলে বাড়ি ফিরবে। ছুটি নেই বলে কাটাই। কিন্তু ঈদের সময়েও যদি একই কথা বলতে হয়, তাহলে মায়ের মনটা কেমন হয়! বুজে আসা কণ্ঠে সাইফুলের অনুযোগ।

৩৩ ব্যাচের আউটসাইড ক্যাডেট হিসেবে ২০১৩ সালে চাকরিতে যোগ দেন এসআই সাইফুল। এরপর থেকেই মায়ের সঙ্গে তেমন সময় কাটানো হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতেকি মাকে যে একটু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো, সেই সময়টাও পাইনা। কথা বলতে বলতে গলাটা ভারি হয়ে আসে। এভাবেই লাখো পুলিশ সদস্য নিজের সুখ-সাচ্ছন্দকে বিলিন করে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018