শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুরে নদীতে-মাটিতে সহস্রাধিক চামড়া

জগন্নাথপুরে নদীতে-মাটিতে সহস্রাধিক চামড়া

কোরবারির চামড়া নিয়ে যা হলো তা নজিরবিহীন, অস্বাভাবিক ও অকল্পনীয়। এবার চামড়া শিল্পে ধস নামিয়ে দিয়েছে সিন্ডিকেট। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দুদিন অপেক্ষার পরও ক্রেতা না পাওয়ায় উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামবাসী ও সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ৭৫০টি গরুর চামড়া ও ৯৫টি খাসির চামড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাটিতে পুঁতে দিয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা সদরের হবিবপুর এলাকাবাসী ও হবিবপুর ফাজিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ক্রেতা না পাওয়ায় ৩৭৫টি গরুর চামড়া পাশের নলূয়া হাওর সংলগ্ন কাটা নদীতে ভাসিয়ে দেন।

এদিকে উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নে হলিয়ার পাড়া জামিয়া কাদেরিয়া সুন্নিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম পারভেজ বুধবার জানান, তার মাদ্রাসায় দানকৃত ১৩৮টি বড় ও মাঝারি গরুর চামড়া নিরূপায় হয়ে পানির দরে বিক্রি করেন। প্রতিটি চামড়া ১৩৮ টাকা করে বিক্রি করা হয়।
তিনি বলেন, এবার সিন্ডিকেট করে মাদ্রাসার গরীব অসহায় এতিম ছাত্রদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। অন্যদিকে চামড়া শিল্পে ধস নামিয়ে দেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা ও চামড়া শিল্পের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এটি।

সৈয়দপুর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ঈদের দিন সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। কোরবানিদাতারা মাদ্রাসার উন্নয়ন তহবিলে চামড়াগুলো দান করেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া বিক্রয়ের জন্য ঈদের দিন ও পর দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বিক্রি করতে পারেননি। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও গ্রামবাসী ওইসব চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাদ্রাসার নিকটস্থ এলাকায় মাটিতে পুঁতে দেন।

বুধবার বিকালে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা সৈয়দ ফখরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও আমাদের মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরুর ৭৫০টি চামড়া ও ৯৫টি খাসির চামড়া সংগ্রহ করা হয়। ২ দিন অপেক্ষার পরও চামড়া ক্রয় করতে কেউ আসেনি। তাই গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাটিতে পুঁতে দেয়া হয়েছে চামড়াগুলো।

তিনি বলেন, চামড়াগুলো সংগ্রহে এবং চামড়ায় লবণ ব্যবহারে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

এদিকে বুধবার হবিবপুর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য আবদুর রব যুগান্তরকে জানান, আমরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষর পরও কেউ চামড়া ক্রয় করতে না আসায় এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তে মঙ্গলবার বিকালে পাশের কাটা নদীতে ৩৭৫টি গরুর চামড়া ভাসিয়ে দেয়া হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018