রবিবার, ২১ Jul ২০১৯, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

আমরা রাখাইন চাই না কখনই চাইব না: প্রধানমন্ত্রী

আমরা রাখাইন চাই না কখনই চাইব না: প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কংগ্রেস ম্যান ব্রাড শেরম্যানের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। রাখাইন মিয়ানমারের অংশ।

আমরা এটা (রাখাইন) চাই না। কখনই চাইব না। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার মানে এই না যে, তাদের একটা অংশ নিয়ে চলে আসব। সেই মানসিকতা আমাদের নেই। সেখানে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে রাখাইনকে জুড়ে দিতে চায় কেন?’

সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের দেশকে নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে সীমানা আছে, আমার যে দেশটা, ৫৪ হাজার বর্গমাইল বা ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার, আমরা তাতেই খুশি।

অন্যের জমি নিয়ে আসা বা অন্যের প্রদেশ আমাদের সঙ্গে যুক্ত করা আমরা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করি। এটা আমরা কখনোই নেব না। কারণ প্রত্যেক দেশ তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে। মিয়ানমার তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে। আমরা আমাদেরটা নিয়ে থাকব।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে চীন সফরের বিস্তারিত লিখিত আকারে পাঠ করেন শেখ হাসিনা। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে শিগগিরই তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য এ সংকট দ্রুত সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে চীন।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের উন্নতি চাইলে এটি মেনে নিতেই হবে। আর চাকরিতে প্রবেশের বয়স কেন ৩৫ বছর করা যাচ্ছে না- সে ব্যাপারে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া পুরুষদের ধর্ষণবিরোধী আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান। আর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টিমের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে এশিয়া প্রশান্ত-মহাসাগরীয় উপকমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেস ম্যান ব্রাড শেরম্যানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ ধরনের কথা বলা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, অন্যায় কাজ বলে আমি মনে করি। হতে পারে তারা খুব বড় দেশ।

সেই দেশের একজন কংগ্রেস ম্যান। কিন্তু তারা কী ভুলে গেছে তাদের অতীত। তাদের যখন গৃহযুদ্ধ লেগেই থাকত সেই অতীত তো তাদের ভুলে যাওয়া উচিত না। আর সেটা যে ভবিষ্যতেও আসবে না সেটা তারা নিশ্চিত হয় কিভাবে?’

তিনি বলেন, আর রাখাইন স্টেটে প্রতিনিয়ত যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা জেনেবুঝে ওই ধরনের একটা গোলমেলে দেশের সঙ্গে যুক্ত করব কেন! এটা আমরা কখনোই করব না।

তাই এসব কথা না বলে মিয়ানমার যেন নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়, কংগ্রেস ম্যান শেরম্যানের সেটাই করা উচিত। সেটাই হবে মানবিক দিক। একটা দেশের ভেতরে এভাবে গোলমাল পাকানো এটা কোনোভাবেই ঠিক না।’

শেখ হাসিনা বলেন, যেখানেই ‘তারা’ হাত দিয়েছে সেখানেই তো আগুন জ্বলছে। কোথাও তো শান্তি আসেনি বরং জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের এ অঞ্চলটা আমরা একটু শান্তিপূর্ণভাবে থাকার চেষ্টা করছি, এখানেও তাদের আগুন লাগানোর প্রচেষ্টা, এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য না।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি : দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি চাইলে আন্দোলন না করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতেই হবে- এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দাম যেটুকু বাড়ানো হয়েছে, এটা যদি না বাড়ানো হয়, তাহলে আপনাদের কাছে দুটো পথ আছে। হয় আমরা এলএনজি আমদানি কমিয়ে দিয়ে এনার্জির ক্ষেত্র সংকুচিত করে ফেলব, তাতে উন্নতি হবে না। আর যদি সত্যিই অর্থনৈতিক উন্নতি চান, এটা তো মেনে নিতেই হবে।’

দেশের উন্নয়নে এলএনজি ও গ্যাসের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিল্পায়ন করতে হলে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হলে, সার উৎপাদন করতে হলে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পেতে হলে সরকারকে এলএনজি আমদানি করতেই হবে। এলএনজি আমদানি করতে আমার কত টাকা খরচ হয়, সেই হিসাবটা তো আগে জানতে হবে।

প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে আমাদের খরচ পড়ে ৬১.১২ টাকা। সেটা আমি দিচ্ছি ৯.৮০ টাকায়। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করতে গিয়ে যারা ভারতে দাম কমানোর প্রসঙ্গ তোলেন- তাদের উদ্দেশে দুই দেশের গ্যাসের দামের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ভারতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম গৃহস্থালিতে স্থানভেদে ৩০ থেকে ৩৭ টাকা, শিল্পে ৪০ থেকে ৪২ টাকা, সিএনজি ৪৪ টাকা আর বাণিজ্যিকে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। আর বাংলাদেশে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম গৃহস্থালিতে ১২.৬০ টাকা, শিল্পে ১০.৭০ টাকা সিএনজি ৪৩ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ২৩ টাকা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এলএনজি নিয়ে এসে যেটা ৬১.১২ টাকা, সেটা দিচ্ছি ৯.৮০ টাকায়। তারপরেও আন্দোলন! আন্দোলনে একটা মজার বিষয় আছে, বাম আর ডান মিলে গেছে এক সুরে, এই তো? ভালো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের আগে ঠিক করতে হবে, তাদের গ্যাসের প্রয়োজন আছে কিনা। আমরা যদি দেশের উন্নতি করতে চাই, এ এনার্জি একটা বিষয়। আপনারা যদি লক্ষ্য করেন, ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপি কতটুকু বেড়েছে? আর আমরা এখন জিডিপি ৮.১ শতাংশ পর্যন্ত অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

এর কারণ আমরা এনার্জির ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পেরেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ আমদানি বাড়াতে পারলেও বাংলাদেশকে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। আর এলএনজি আমদানির জন্য খরচও বেশি পড়ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

শেখ হাসিনা বলেন ‘এখন যে পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে, তারপরও বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। আন্দোলন যেহেতু হচ্ছে, তাহলে একটা কাজ করি, যে দামে কিনব, সেই দামে বেচব। ৯ টাকার বদলে ৬১ টাকা দরে বেচব।’

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হরতাল হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব ট্যাক্স মাফ করে দেয়া হয়েছে। মানুষের কাছে যাতে সহজলভ্য হয়, আমি সেই ব্যবস্থাটা করেছি। তারপরও উনারা হরতাল ডাকেন, আন্দোলন করেন। খুব ভালো, বহুদিন পর হরতাল পেলাম তো, পরিবেশের জন্য ভালো, ধন্যবাদ।’

চাকরির বয়স : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর না করার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তিনটি বিসিএস পরীক্ষার ফল তুলে ধরেন। সেখানে দেখা যায় ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে যারা পরীক্ষা দেন তাদের পাসের হার ৪০-এর উপরে আর ২৯ বছরের পরে যারা পরীক্ষা দেন তাদের পাসের হার ৩ শতাংশের মধ্যে। তিনি বলেন, ৩৫ বছর হলে কি অবস্থা হবে, হয়তো পাসের জন্য কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থী ১৬ বছরে এসএসসি পাস করে। এইচএসসি ও অনার্স-মাস্টার্স করতে আরও ৭ বছর। সব মিলে ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্স পাস করে বের হয়। ২৩ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত বিসিএস পরীক্ষায় ভালো করতে পারে। এর পরে যারা পরীক্ষা দেয় তারা ভালো করতে পারে না। সুতরাং চাকরির ক্ষেত্রে ৩৫ বছর করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা দেশবাসী বিচার করবে।

৩৫তম বিসিএসের ফল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তাদের পাসের হার হল ৪০ দশমিক ৭ ভাগ, ২৫ থেকে ২৭ বছর যাদের বয়স, তাদের পাসের হার হল ৩০ দশমিক ২৯ ভাগ। আর ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের পাসের হার হল ১৩ দশমিক ১৭। ২৯ বছরের বেশি বয়সীদের পাসের হার ৩ দশমিক ৪৫ ভাগ।’

৩৬তম বিসিএসের ফল প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৪৫ ভাগ। ২৫ থেকে ২৭ বছর বয়সীদের পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৮ ভাগ। ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের পাসের হার ১৪ দশমিক ৮৯ ভাগ। ২৯ বছরের বেশি বয়সীদের পাসের হার ৩ দশমিক ২৩ ভাগ।’

৩৭তম বিএসএসের ফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ৬৫ ভাগ। ২৫ থেকে ২৭ বছর বয়সীদের পাসের হার ২৩ দশমিক ৩৫ ভাগ। ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের পাসের হার ৭ দশমিক ২০ ভাগ। ২৯ বছরের বেশি বয়সীদের পাসের হার ০ দশমিক ৬১ ভাগ।’

বিসিএসের তিন পর্বের ফল বিশ্লেষণ করে শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, ‘কোনটা গ্রহণ করব এখন বলুন। আমি আর কিছু বলতে চাই না, আমি কেবল হিসাবটা দিলাম। চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ পর্যন্ত করলে অবস্থাটা কী দাঁড়াবে, আমাকে একটু বুঝিয়ে বলুন।

কারণ তখন তো বিয়েশাদি হবে, ছেলেমেয়ে হবে, ঘর সামলাতে হবে, বউ সামলাতে হবে আর বই কিনতে হবে। তখন তো আরও করুণ অবস্থা হয়ে যাবে। কাজ করার একটা সময় থাকে। একটা এনার্জি থাকে। এই যে একটা দাবি তোলা, এখন দাবি তোলার জন্য যদি দাবি তোলা হয়, আমার কিছু বলার নেই। এই দাবি তোলার জন্য কোনো না কোনো জায়গা থেকে নিশ্চয় কোনো প্রেরণা পাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩৫ বছর বয়সে পরীক্ষা দিলে এর রেজাল্ট, ট্রেনিং, ট্রেনিং শেষ হতে যদি আরও দুই বছর লাগে, তাহলে ৩৭ বছর গেল। ৩৭ বছরে চাকরি হলে কী হবে? চাকরির বয়স কিন্তু ২৫ বছর না হলে ফুল পেনশন পাবে না। ঠিক আছে, পেনশন না পেল। তাহলে একটা সরকার কাদের দিয়ে চালাব?

আমরা সবসময় বলি, যারা মেধাবী, তরুণ, কর্মক্ষম তাদের দিয়েই তো আমাদের দেশের উন্নয়ন কাজ করব। কিন্তু বয়স বাড়লে তো কাজের গতিও কমে। এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। যাই হোক, আমি শুধু হিসাবটাই দিলাম, দেশবাসী বিচার করুক, আপনারাও বিচার করুন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা জানেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসময় ছিল প্রাচ্যের অক্সফোর্ড, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময় ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু ’৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা কী দেখেছি? একটা শ্রেণি নেমে গেল অস্ত্র হাতে। গুলি-বোমা-অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়া আর কিছুই শোনা যেত না। সেশনজট তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। আমরা আসার পর ধীরে ধীরে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছি।’

ধর্ষণবিরোধী আওয়াজ : ধর্ষণ প্রতিরোধে নারী সমাজের পাশাপাশি পুরুষ সমাজকেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের পুরুষ সমাজকেও বলব ধর্ষণটা তো পুরুষ সমাজ করে যাচ্ছে । এ ধরনের জঘন্য কাজের বিরুদ্ধে পুরুষ সমাজেরও বোধহয় একটা আওয়াজ তোলা উচিত।

যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা উচিত। খালি নারীরাই চিৎকার করে যাবে নাকি? আমরা নির্যাতিত হয়ে সব চিৎকার করব আর নির্যাতনকারী ও তাদের স্বজাতি যারা আছে তাদেরও এ ব্যাপারে একটু সোচ্চার হওয়া উচিত বলে মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও নারী ধর্ষণের কথা তুলে ধরে বলেন, দুর্ভাগ্য হল যে, ধর্ষণটা কিন্তু সবসময় সব দেশেই আছে। এখন একটা জিনিস অন্তত পক্ষে মেয়েরা সাহস করে কথাটা বলে। আমাদের দেশে এমন একটা সময় ছিল, সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই বলতেই পারত না। আর এর বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেয়ার আমরা কিন্তু নিচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে এদের ধরা হচ্ছে। গ্রেফতার করা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণের মতো নোংরা জঘন্য কাজ যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই (সামিয়া) যে শিশুটাকে ধর্ষণ করল তাকে কিন্তু ঠিকই পুলিশ খুঁজে বের করেছে এবং গ্রেফতারও করা হয়েছে। সে স্বীকারও করেছে। এ ধরনের নোংরা জঘন্য কাজ যারা করছে এরা মানুষ নয়। কাজেই এদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার আমরা সব নেব।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ : বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স অত্যন্ত ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট খেলে, যেমন- বড় বড় দল তাদের পর্যন্ত হারিয়ে দিয়েছে। সাকিব, মোস্তাফিজ বিশ্বকাপে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশ যথেষ্ট উন্নতি করছে। হয়তো সেমিতে যেতে পারেনি। চারটি দল সেমিতে গেছে। যে দলগুলো বাদ পড়েছে তারা সবাই কি খারাপ দল? দীর্ঘদিন ধরে যারা ক্রিকেট খেলছে তাদের সঙ্গে মোকাবেলা করেছে আমাদের ছেলেরা। এই সাহসই তো বড় কথা। সবাই যে সব খেলায় জিতবে এমন কোনো কথা নয়। তা ছাড়া ভাগ্যও লাগে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

রোহিঙ্গা সংকট : রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন কাজ করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দু’বার মিয়ানমারে পাঠিয়েছেন, প্রয়োজনে আবারও পাঠাবেন।’

তিনি বলেন, ‘চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সম্মত করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।’

রোহিঙ্গা সমস্যা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি জানিয়ে বৈঠকে চীনা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ অঞ্চলের শান্তি এবং স্থিতিশীলতার ওপর আমি গুরুত্ব আরোপ করি। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এই স্থিতিশীলতা সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আমি বৈঠকে উল্লেখ করি।’

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি জায়গা পায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যতদূর সম্ভব চীন চেষ্টা করে যাবে। বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার আমাদের (চীন) ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দু’দেশই আমাদের কাছে সমান। কেউ কম বা বেশি নয়।

সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এছাড়া মন্ত্রী, এমপি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে গত ১ জুলাই বেইজিং যান প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে গত শনিবার (৬ জুলাই) তিনি দেশে ফেরেন। চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়া চীনের দালিয়ান শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অ্যানুয়াল মিটিংয়ে যোগদান করেন এবং ‘কো-অপারেশন ইন দি প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ঢাকা এবং বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সংক্রান্ত ৯টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

সূত্র যুগান্তর

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © bdbulletin.com 2018